ইসিবি চত্বরের আবাসন প্রকল্পে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি; এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়
ঢাকা | TODAY TV BD | ক্রাইম ডেস্ক
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মিজানুর রহমান (৫৯) নামে আরও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল গফুরের জামাতা বলে জানিয়েছে একাধিক গণমাধ্যম। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলার মামলায় এটাই সর্বশেষ গ্রেপ্তার।
যেভাবে গ্রেপ্তার মিজানুর
ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মিজানুর রহমানের অবস্থান শনাক্ত করে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মিজানুরকে মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিজানুরের আগে এই মামলায় হামলার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার মাহমুদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ডিএমপি-সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মিজানুরকে গ্রেপ্তারের পর এ ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছয়ে দাঁড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল নিউগিনি প্রোপার্টিজে
গত ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রোপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে সংঘবদ্ধ হামলা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে অস্ত্রধারীরা প্রকল্পে ঢুকে প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি চাপাতি, রামদা, ছুরি, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর এবং নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ও ওয়্যারলেস সেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রধান ফটক, অফিসকক্ষ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রকল্পের লকার থেকে ২৫ লাখ টাকা এবং নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে।
এজাহারে নিউগিনি প্রোপার্টিজের পক্ষ থেকে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রড, বৈদ্যুতিক তার, পানির পাম্প, নির্মাণসামগ্রী, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সিসিটিভি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামালের কথা উল্লেখ রয়েছে। এগুলো অবশ্য মামলাকারী পক্ষের হিসাব ও অভিযোগ; তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ হওয়ার কথা।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও হামলা
নিউগিনি প্রোপার্টিজের একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিও পরিচালিত হতো। একই হামলায় স্টুডিওটিও ভাঙচুর করা হয়। স্টুডিও কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্যামেরা, লেন্স, লাইট, সফটবক্স ও সিসিটিভি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করা হয়েছে। নিউগিনি প্রোপার্টিজের মামলার এজাহারে স্টুডিওতে প্রায় ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, নিউগিনি প্রোপার্টিজের জমির মালিকানা ও এলাকার অন্য জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, নিউগিনি প্রোপার্টিজ সেখানে একটি গেট নির্মাণ করে অন্যদের চলাচল সীমিত করেছিল—এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তবে হামলার সঙ্গে কার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ কতটা জড়িত, তা তদন্তের বিষয়।
মামলায় যাদের নাম
নিউগিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্প কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এজাহার অনুযায়ী, মামলায় শাহরিয়ার মাহমুদ, মো. আবুল কাশেম, মো. বাবুল হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, এমকে আজাদ, মো. মামুন, মো. আসলাম ও মুন্নাসহ মোট ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র এবং গুলির খোসা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন
মিজানুর রহমানসহ এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি, হামলার আগে কারা সংগঠিত হয়েছিল, কার নির্দেশে লোকজন সেখানে গিয়েছিল এবং জমি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে হামলার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক কী—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায়। একই সঙ্গে হামলার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র, লুট হওয়া মালামাল এবং ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজও চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মিজানুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়া মানেই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা এবং প্রত্যেক আসামির ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
তথ্যসূত্র: ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিউজ; জাগো নিউজ২৪; বিডিনিউজ২৪; যমুনা টিভি; বাংলা ট্রিবিউন; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।




