জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ; সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অক্ষুণ্ন রাখার আশ্বাস
ঢাকা | ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, দেশে সমস্যা রয়েছে এবং সরকার সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী শাসন ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে কোনো সমস্যা নেই—এমন দাবি কখনো করা হয়নি বলেও তিনি জানান।
সংকটকে ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ
তারেক রহমান বলেন, দেশের কিছু বাস্তব সমস্যার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এর উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের সীমার মধ্যে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকারও এসব সমস্যা সমাধানে একাধিক কর্মসূচির কথা জানিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে দুঃখপ্রকাশ
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার এ সংকটকে স্থায়ীভাবে মোকাবিলার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে যাতে দেশের মানুষ একই ধরনের জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের ঘোষিত জ্বালানি পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নতুন কূপ খনন, এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আশ্বাস
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং সরকার অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সংকটকে কেন্দ্র করে যাতে রাজনৈতিক সংঘাত বা অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের ভূমিকার প্রসঙ্গ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দলটির অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন জাতীয় সংকটে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল সাধারণ মানুষ এবং এর সাফল্যের কৃতিত্বও জনগণের।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় মানুষের প্রত্যাশা পূরণে দল ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে সরকারের সামনে থাকা বাস্তব সংকটের স্বীকৃতি রয়েছে, অন্যদিকে সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তাও রয়েছে।
তবে সরকারের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার কতটা সমাধান হয়—সেটিই শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের কার্যকারিতার বড় মাপকাঠি হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
“অবশ্যই দেশে কিছু সমস্যা আছে। কিন্তু এসব সমস্যার সুযোগ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সামনে কী
এখন নজর থাকবে সরকার কীভাবে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করে এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখে। সংকট মোকাবিলায় বাস্তব ফলাফল ও জনভোগান্তি কমানোর ওপরই সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের কার্যকারিতা নির্ভর করবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, BSS




