Homeটুডে নেশনবিটুমিন থেকে জ্বালানি তেল: এক কোম্পানির হাতে বাজার কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কতটা?

বিটুমিন থেকে জ্বালানি তেল: এক কোম্পানির হাতে বাজার কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কতটা?

দেশীয় শিল্প সুরক্ষার নীতি কি প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিয়েছে? বেসরকারি রিফাইনারিকে জ্বালানি বিপণনের সুযোগে কী বদলাচ্ছে বাজারের কাঠামো? অনুসন্ধানে উঠছে মূল্য, প্রতিযোগিতা ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার একাধিক প্রশ্ন

ঢাকা | ৮ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নতুন নয়। তবে বিটুমিন উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগের পরিধি বাড়তে থাকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—জ্বালানি খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, নাকি বাজারের নিয়ন্ত্রণ ক্রমে অল্প কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে?

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একচেটিয়া ব্যবসা বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ প্রমাণিত ধরে নেওয়া যাবে না। বরং দেখতে হবে, বিগত সময়ে গৃহীত নীতি ও বাজার কাঠামো এমন কোনো সুবিধা তৈরি করেছে কি না, যা প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিয়েছে।

💰 বিটুমিনের বাজারে যেভাবে পরিবর্তন এলো: একটি সময়রেখা

২০১৬ সালের ১৫ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিওজিসিএল)-কে দেশের প্রথম বেসরকারি বিটুমিন প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্ল্যান্টটির বাণিজ্যিক উদ্বোধন হয়।

দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনের পক্ষে তখন প্রধান যুক্তি ছিল—আমদানিকৃত বিটুমিন দেশের আবহাওয়ার উপযোগী নয় এবং স্থানীয় উৎপাদনে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। নীতিগতভাবে এটি একটি স্বাভাবিক শিল্প-উন্নয়ন যুক্তি। তবে সমস্যা তৈরি হতে পারে যখন দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে আমদানির ওপর এমন বাধা তৈরি হয়, যার ফলে বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা কমে যায়।

📊 শুল্ক-কর ও পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা: কী পরিবর্তন এসেছিল

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যান্ট চালুর পরপরই আমদানিকৃত বিটুমিনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক-কর আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (BTTC) মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের ‘সুরক্ষা’র যুক্তিতে আমদানিকৃত ড্রামজাত বিটুমিনের ওপর প্রায় ৪৭ শতাংশ এবং বাল্ক বিটুমিনের ওপর প্রায় ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক-কর আরোপিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর পাশাপাশি প্রতিটি আমদানিকৃত বিটুমিন চালানের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বাধ্যতামূলক পরীক্ষার নতুন নিয়ম চালু হয়। আমদানিকারকদের অভিযোগ, এই বাড়তি শুল্ক ও পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাঁদের খরচ ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, এবং একের পর এক প্রতিযোগী বাজার থেকে ছিটকে পড়তে শুরু করে।

🛣️ দামের প্রভাব: টনপ্রতি ৩৯,০০০ থেকে ৫৯,০০০ টাকা

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিযোগীরা বাজার ছেড়ে যেতে শুরু করার পর বিটুমিনের দাম টনপ্রতি প্রায় ৩৯,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৬,০০০-৫৯,০০০ টাকায় পৌঁছায়, যার ফলে নির্মাণ ব্যয় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় বলে দাবি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের বিটুমিনের চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন—বিটুমিনের মূল্যবৃদ্ধির জন্য কেবল শুল্ক বা কোনো একটি কোম্পানিকে দায়ী করা অর্থনৈতিকভাবে সরলীকরণ হবে। আন্তর্জাতিক ক্রুড অয়েলের দাম, ডলারের বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয়, জাহাজভাড়া—এসবও এখানে ভূমিকা রাখে।

বিটুমিন শুধু একটি শিল্পপণ্য নয়, এটি দেশের সড়ক অবকাঠামোর অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। ফলে বিটুমিনের বাজারে প্রতিযোগিতা কমে গেলে তার প্রভাব শুধু আমদানিকারক বা নির্মাণ কোম্পানিতে সীমাবদ্ধ থাকে না—শেষ পর্যন্ত তা সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় এবং করদাতার অর্থের ওপরও পড়তে পারে।

🛢️ উপজাত জ্বালানি: আইনি বাধা থেকে বিশেষ সুবিধা পর্যন্ত

বিটুমিন উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে ন্যাপথা, ফার্নেস অয়েল ও উচ্চমানের ডিজেল তৈরি হয়। প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী, এসব জ্বালানি তেল শুধু রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (BPC)-এর কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির কথা।

তবে এই সময়রেখায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:

২০২১ সালের মার্চ: বসুন্ধরা গ্রুপ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে যে তারা বিটুমিন প্ল্যান্টের বাই-প্রোডাক্ট সরাসরি খোলা বাজারে বিক্রি করতে চায়।

২০২১ সালের আগস্ট: জ্বালানি বিভাগ প্রাথমিকভাবে জানিয়ে দেয়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিপিসি ছাড়া অন্য কারও স্থানীয় বাজারে সরাসরি জ্বালানি বিতরণের আইনি অধিকার নেই।

২০২২ সালের ৩১ মার্চ: এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে বসুন্ধরা গ্রুপ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর কাছে সরাসরি আবেদন জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

২০২২ সালের জুন: উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টতার পর জ্বালানি বিভাগ পুনরায় বিপিসির মতামত চায়, এবং এবার “সীমিত পরিসরে” বেসরকারি খাতকে বিপণনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব আসে।

২০২৩ সালের নভেম্বর: সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় বড় ধরনের সংশোধন আনে।

২০২৪ সালের জুন: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করে, যেখানে বলা হয়—কোনো বেসরকারি রিফাইনারি বা প্ল্যান্ট প্রথম তিন বছর তাদের উৎপাদিত জ্বালানির ৪০ শতাংশ সরাসরি নিজস্ব ডিস্ট্রিবিউশন চেইনের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রি করতে পারবে; বাকি ৬০ শতাংশ বিপিসির কাছে বিক্রি করতে হবে।

এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বসুন্ধরা তাদের বিটুমিন প্ল্যান্টের বাই-প্রোডাক্ট ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল সরাসরি পাম্প ও শিল্প-কারখানায় বিক্রির আইনি বৈধতা লাভ করে।

📈 পরবর্তী ধাপ: পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সম্প্রসারণ

উপজাত তেল বিক্রির অনুমোদনের পর অভিযোগ উঠেছে যে বসুন্ধরা কেবল নিজেদের প্ল্যান্টের উপজাত বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিদেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতকরণের জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে। দেশে বার্ষিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ টন, যেখানে একটি একক বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে এর একটি বড় অংশের আমদানি কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

⚠️ এলপি গ্যাসের নজির: আশঙ্কার পটভূমি

এই উদ্বেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি হলো এলপি গ্যাস (সিলিন্ডার গ্যাস) খাতের অভিজ্ঞতা। এই খাতকে পুরোপুরি বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পর বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে প্রতি মাসে দাম বাড়তে থাকার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) দাম বেঁধে দিলেও বেসরকারি কোম্পানিগুলো তা মেনে চলে না বলে বহুবার অভিযোগ উঠেছে। এই নজিরের ভিত্তিতেই আশঙ্কা করা হচ্ছে, মূলধারার জ্বালানি (ডিজেল-পেট্রোল) বেসরকারি খাতের হাতে গেলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

🌍 বৈশ্বিক সংকটে কী হতে পারে

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি আসে। কোনো যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে বা সরবরাহ সংকট তৈরি হলে, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণত সরবরাহ নিশ্চিত করার রাজনৈতিক ও কৌশলগত দায়িত্ব বহন করে। অন্যদিকে বেসরকারি কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য বাণিজ্যিকভাবে টেকসই থাকা।

সংকটের সময় বেসরকারি আমদানিকারকরা লোকসান স্বীকার করে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে কিনা—এর উত্তর নিশ্চিত নয়। এ কারণেই উন্নত অনেক দেশ জ্বালানি বাজারে বেসরকারি অংশগ্রহণের পাশাপাশি কৌশলগত মজুত, জরুরি আমদানি ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ধরে রাখে।

🔍 সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: একই প্রতিষ্ঠান কি ধারাবাহিকভাবে একাধিক সুবিধা পেয়েছে?

এখানে অনুসন্ধানের মূল জায়গাটি কোনো একটি কোম্পানির ব্যবসা নয়; বরং নীতিনির্ধারণের ধারাবাহিকতা। সময়রেখা অনুযায়ী দেখা যায়:

একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনে বিনিয়োগ করল → এরপর বিটুমিন আমদানিতে শুল্ক সুরক্ষা এল → আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো → বিটুমিনের বাজারে দেশীয় উৎপাদকের অবস্থান শক্তিশালী হলো → রিফাইনারির উপজাত জ্বালানি সরাসরি বাজারজাতের সুযোগ এল → এরপর পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বাজারজাতের সম্ভাবনা তৈরি হলো।

এই ধারাবাহিকতার প্রতিটি সিদ্ধান্ত পৃথকভাবে বিবেচনা করলে বৈধ ও নীতিগতভাবে যুক্তিসঙ্গত মনে হতে পারে। কিন্তু সবগুলো সিদ্ধান্ত একই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত হলে নীতিগত সুবিধা ও প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। বিশেষত আবেদন থেকে সিদ্ধান্ত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অবস্থান পরিবর্তনের সময়কাল ও প্রেক্ষাপট এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে—যদিও এই সিদ্ধান্ত-পরিবর্তনের পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ স্বাধীনভাবে যাচাই করার মতো বিস্তারিত সরকারি নথি এখনো সর্বজনীনভাবে প্রকাশিত হয়নি।

🧾 সরকারকে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে

১. বিটুমিন আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কের যৌক্তিকতা কী? দেশীয় শিল্পকে কত বছর সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং সুরক্ষা তুলে নেওয়ার সময়সীমা আছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

২. ল্যাব পরীক্ষার নিয়ম কি সব আমদানিকারকের জন্য সমান? মান নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, কিন্তু পরীক্ষার প্রক্রিয়া যেন প্রতিযোগিতার বাধা না হয়।

৩. বেসরকারি রিফাইনারির জ্বালানি বাজারজাতের ক্ষেত্রে কতগুলো প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হবে? একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ নিশ্চিত করা না গেলে বাজার ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

৪. ডিজেলের বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ বাজার অংশ কত হতে পারবে? প্রতিযোগিতা আইন ও বাজার নিয়ন্ত্রণের কাঠামো এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটে সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা কী? বেসরকারি আমদানিকারকের সরবরাহ ব্যাহত হলে রাষ্ট্র কীভাবে দ্রুত বিকল্প জোগান নিশ্চিত করবে।

৬. কৌশলগত জ্বালানি মজুত কতদিনের? এটি জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

💰 সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ কী

জ্বালানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু বাজারে প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে বিপরীত চিত্র দেখা দিতে পারে। ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়বে, কৃষির সেচ ব্যয় বাড়বে, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে—শেষ পর্যন্ত বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

⚠️ দাবি বনাম বাস্তবতা

দাবিবাস্তবতা
দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিলে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবেশিল্প সুরক্ষা স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রতিযোগিতা কমানোর ঝুঁকি তৈরি করে
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি আমদানি করলে প্রতিযোগিতা বাড়বেকতগুলো প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রবেশ করতে পারবে, সেটিই মূল বিষয়
একটি বড় প্রতিষ্ঠান বাজারে শক্তিশালী হওয়া মানেই একচেটিয়া বাজারএকচেটিয়াতন্ত্র নির্ভর করে বাজার অংশ, প্রবেশের বাধা, বিকল্প সরবরাহকারী ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ওপর
বেসরকারি খাত সংকটে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারেএটি ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনাযোগ্য, তবে বাস্তবে কী হবে তা নির্ভর করবে সরকারি নিয়ন্ত্রণ, চুক্তি, মজুত ও জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর

🧭 শেষ কথা: সমস্যা বেসরকারি বিনিয়োগ নয়, সমস্যা নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্যে

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর জ্বালানি অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন। রাষ্ট্র একা সব বিনিয়োগের ভার বহন করতে পারবে না। কিন্তু জ্বালানি এমন একটি খাত, যেখানে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সুস্পষ্ট সীমানা থাকা জরুরি।

কোনো একটি কোম্পানি বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী কত বড় হবে—এটি নিজে সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন নীতিনির্ধারণের কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয় যে নতুন প্রতিযোগী বাজারে প্রবেশ করতে পারে না, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে যায়।

তাই সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনো একটি কোম্পানিকে ঠেকানো নয়; বরং এমন একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও সংকট-সহনশীল জ্বালানি বাজার তৈরি করা, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগ থাকবে কিন্তু বাজার দখলের সুযোগ থাকবে না; প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে না; রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে কিন্তু ব্যবসায়িক বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করবে না।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—”তেল কে বিক্রি করবে?” নয়; বরং “সংকটের দিনে তেল সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে?”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments