Homeটুডে নেশনরাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা, বিচ্ছিন্ন মাথা...

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা, বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার

পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী আটক; নৃশংসতায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক

ঢাকা | ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম রামিসা। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে শিশুটির শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে বালতিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি, রোড-৭-এর ৩৯ নম্বর বাসায় এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ( can-do৩২) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শিশু রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন। তাদের মূল বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার শিয়ালদী গ্রামে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পল্লবী এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ফাঁকা বাসায় ডেকে নিয়ে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালের দিকে ঘটনার সময় শিশুটির বাবা-মা বাসায় ছিলেন না। রামিসা ও তার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় বোন বাসায় ছিল। কোনো এক ফাঁকে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে একা পেয়ে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে বা ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। ওই সময় সোহেলের ফ্ল্যাটটিও সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে সোহেল রানা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে এবং পরে তার মাথা ঘাড় থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটির মা তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বামীকে ফোন করলে পরিবারের সদস্যরা এসে পাশের ফ্ল্যাট থেকে রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ও বালতি থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেন।

অভিযুক্ত দম্পতি আটক, সিআইডির আলামত সংগ্রহ

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পল্লবী থানা পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক আলামত সংগ্রহ করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করেছে। ঘটনার পরপরই স্বপ্নাকে এবং পরবর্তীতে রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে পালিয়ে থাকা মূল অভিযুক্ত সোহেলকে আটক করা হয়। হত্যার পূর্বে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

📊 ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র

  • নিহত শিশু: রামিসা (বয়স: ৮ বছর)।
  • ঘটনাস্থল: বাসা নম্বর-৩৯, রোড-৭, ব্লক-বি, সেকশন-১১, পল্লবী, ঢাকা।
  • ঘটনার সময়: ১৯ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে)।
  • আটককৃত অভিযুক্ত: সোহেল রানা ( can-do৩২) ও তার স্ত্রী স্বপ্না।
  • বর্তমান অবস্থা: লাশ ঢাকা মেডিকেল মর্গ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।
    শিশুটির পিতা আবদুল হান্নান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “জানুয়ারের (সোহেল) ফাঁসি চাই।” ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নাগরিক সমাজ এই ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পল্লবী থানায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিপরীতে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

  • তথ্যসূত্র: পল্লবী থানা পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ডিএমপি মিরপুর বিভাগ এবং সিআইডি ফরেনসিক ইউনিট প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন, ২০ মে ২০২৬।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular