২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২০১ জনের হামের মতো উপসর্গ; সন্দেহভাজন মৃত্যুই বেশি, নিশ্চিত মৃত্যু ১০১
দেশে চলমান হাম পরিস্থিতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তিনজনের মৃত্যু হামের মতো উপসর্গ নিয়ে হয়েছে এবং তিনটিকেই সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যু হিসেবে ধরা হয়েছে। চলতি বছরে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সম্মিলিত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮৩ এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত মৃত্যু ১০১। নতুন ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২০১ জনের হামের মতো উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ মোট উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যদিও উপসর্গ থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির হাম পরীক্ষার আওতায় আসছেন না।
সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর পার্থক্য
হামের প্রাদুর্ভাবের হিসাব বুঝতে সন্দেহভাজন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক হিসাবে উপসর্গযুক্ত মৃত্যু ও রোগীর সংখ্যা বড় হলেও সব মৃত্যুর কারণ পরীক্ষায় হাম হিসেবে নিশ্চিত হয়নি। তাই সম্মিলিত ১ হাজার ৮৪ সংখ্যাকে সরাসরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখানো যাবে না।
দেশে শিশুদের মধ্যেই এই রোগের চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
আজ থেকেই টিকাদান কর্মসূচি
চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী আবার হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের জরুরি টিকাদান কর্মসূচির পরও সংক্রমণ চলতে থাকায় এবার আবার মপ-আপ বা অতিরিক্ত টিকা কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। এর আগের কর্মসূচিতে প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছিল।
ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা দেশে আনার কাজও হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাকি টিকা সরবরাহের কাজ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।
শুধু টিকা নয়, দ্রুত চিকিৎসাও জরুরি
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজন হলে আলাদা রাখা এবং জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড দুর্বলতা, খিঁচুনি, পানি শূন্যতা বা অন্যান্য জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
দেশে হাম ও ডেঙ্গু—দুই রোগের চাপ একই সময়ে বাড়ায় হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে টিকাদানের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সক্ষমতা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সংশ্লিষ্ট তথ্য; জাগো নিউজ২৪; দ্য ডেইলি স্টার।




