২০২৫ সালে নতুন এইচআইভি শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ১৬-তে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের হিসাবে গত ১৫ বছরে দেশটিতে নতুন সংক্রমণ প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে; সরকারের নতুন পরিকল্পনায় বিনামূল্যে পরীক্ষা, চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক ওষুধ এবং ক্ষতি কমানোর কর্মসূচি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
সুভা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ ফিজি এইচআইভি পরিস্থিতিকে জাতীয় স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে ঘোষণা করেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে ২০২৫ সালে ২ হাজার ১৬ জনের নতুন এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ফিজিতে এখন আনুমানিক প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল প্রায় প্রতি ১৬৭ জনে একজন।
গত ১৫ বছরে সংক্রমণ বেড়েছে ১২ গুণ
জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডস জানিয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ফিজিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে আনুমানিক ৯ হাজার ১০০ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো শনাক্ত ও চিকিৎসা নেওয়ার হার। ইউএনএইডসের হিসাবে, আক্রান্তদের মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের এইচআইভি স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানেন এবং মাত্র ২২ শতাংশ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফলে অনেক সংক্রমিত মানুষ শনাক্ত হওয়ার বাইরে থাকছেন এবং চিকিৎসা শুরুতে দেরি হচ্ছে।
যৌন সংক্রমণের পাশাপাশি ইনজেকশন ব্যবহারের ঝুঁকি
রয়টার্স জানিয়েছে, ফিজিতে নতুন সংক্রমণের বড় অংশ যৌন সংস্পর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহারের মাধ্যমেও সংক্রমণের হার বেড়েছে।
সরকার জানিয়েছে, ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহারকারীদের জন্য ক্ষতি কমানোর কর্মসূচি বাড়ানো হবে। এর মধ্যে পরিষ্কার সুচ ও সিরিঞ্জ সরবরাহ এবং নিরাপদ ব্যবস্থার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি কেবল সংক্রমণ কমানোর জন্য নয়, আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
নবজাতকদের নিয়েও উদ্বেগ
ফিজির সংকট শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৫৯টি শিশু এইচআইভি নিয়ে জন্মেছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রথম জন্মদিনের আগেই মারা গেছে।
গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সরকারি হিসাবে, প্রতি ১০০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে আনুমানিক দুজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন।
মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতে গর্ভকালীন পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং প্রসব-পূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা বাড়ানো এখন ফিজির স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
বিনামূল্যে পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক সেবা বাড়াচ্ছে সরকার
ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিনামূল্যে ও গোপনীয় এইচআইভি পরীক্ষা আরও বিস্তৃত করা হবে। আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক ওষুধ বা প্রি-এক্সপোজার প্রফাইল্যাক্সিস—যা সংক্ষেপে প্রিইপি নামে পরিচিত—এবং ক্ষতি কমানোর কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হবে।
সরকার এইচআইভি নিয়ে সামাজিক stigma বা সামাজিক লজ্জা ও বৈষম্য কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শুধু পরীক্ষা বাড়ালেই হবে না; মানুষকে যেন নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা করানো, ফল জানা এবং চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
ইউএনএইডস ফিজির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিশ্বে এইচআইভি সংকট এখনো শেষ হয়নি।
ছোট জনসংখ্যার একটি দেশ হওয়ায় ফিজিতে সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো, দ্রুত চিকিৎসা শুরু, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করার ওপর জোর দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: Reuters, Associated Press (AP), AFP, DW, UNAIDS




