স্বাস্থ্যনীতি, দেশীয় ঔষধ শিল্প, জরুরি ওষুধ সরবরাহ ও আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে নীতিগত পরামর্শ দেবে নতুন পরিষদ
ঢাকা | ২ জুলাই ২০২৬
জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করা এবং দেশীয় ঔষধ শিল্পের নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২৪ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এর আগে গত ২১ জুন গঠিত ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করে নতুন এই ২৪ সদস্যের কমিটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
নীতিনির্ধারণে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণ
নতুন পুনর্গঠিত পরিষদে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান।
এছাড়া অর্থ, বাণিজ্য, খাদ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও সদস্য হিসেবে থাকবেন।
পরিষদে যুক্ত করা হয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠন এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিদেরও।
নতুন পরিষদের মূল দায়িত্ব কী
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব হবে—
- জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়নে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া
- দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ
- দেশের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ
- অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরি ও প্রতি দুই বছর অন্তর হালনাগাদ করা
- ওষুধ ও কাঁচামালের আমদানি, উৎপাদন ও রপ্তানি বিষয়ে নীতিগত সুপারিশ প্রদান
- সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা
জরুরি পরিস্থিতিতেও থাকবে বিশেষ ক্ষমতা
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার বৈঠকে বসবে। তবে জরুরি পরিস্থিতি বা জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় অতিরিক্ত সভা আয়োজন করা যাবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের কো-অপ্ট বা অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে সম্ভাব্য প্রভাব
স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের এক প্ল্যাটফর্মে আনার ফলে ওষুধ উৎপাদন, মূল্যনিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নীতিগত সমন্বয় বাড়তে পারে।
বিশেষ করে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের প্রাপ্যতা এবং দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই পরিষদের কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে দেশের চাহিদার বড় অংশ পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করছে। ফলে নীতিগত সমন্বয়, মাননিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও সুসংহত করতে জাতীয় পর্যায়ের এই উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



