গত দুই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়াল; মৃতদের মধ্যে ঢাকাতেই ১০ শিশু; ঢাবিতে প্রাচ্যনাটের প্রতীকী প্রতিবাদ ‘শিশুমর্গ’
ঢাকা | ২৪ মে ২০২৬
দেশজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১৬টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৪৩৪ জন শিশু। এই নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের এই বিশেষ প্রকোপে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।
আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দৈনিক প্রতিবেদনে এই ভয়ানক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে, শিশুদের এই গণ-মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং প্রতিষেধক ও চিকিৎসার দাবিতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতীকী মরদেহ হাতে ‘শিশুমর্গ’ শিরোনামে এক অভিনব প্রতিবাদী পরিবেশনা করেছে দেশের খ্যাতনামা নাট্য সংগঠন প্রাচ্যনাট।
📍 গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৬ শিশুর সিংহভাগই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
- ঢাকা বিভাগ: ১০ জন শিশু (সর্বোচ্চ মৃত্যু)
- ময়মনসিংহ বিভাগ: ২ জন শিশু
- রাজশাহী বিভাগ: ১ জন শিশু
- সিলেট বিভাগ: ১ জন শিশু
- বরিশাল বিভাগ: ১ জন শিশু
- রংপুর বিভাগ: ১ জন শিশু
📊 হামের প্রাদুর্ভাব ও হাসপাতালের সর্বশেষ চিত্র (Statistics Panel)
১৫ মার্চ থেকে ২৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংগৃহীত মহামারি সংক্রান্ত তথ্য নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
- মোট মৃত্যুর ধরণ: ৫২৮ জন মৃতের মধ্যে হামের উপসর্গ (Measles-like symptoms) নিয়ে মারা গেছে ৪৪২ শিশু এবং ল্যাব টেস্টে হাম নিশ্চিত (Confirmed Measles) হওয়ার পর মারা গেছে ৮৬ শিশু।
- মোট আক্রান্তের সংখ্যা: গত দুই মাসে সারা দেশে মোট ৬৩ হাজার ৮১৩ জন শিশুর শরীরে হামের স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
- হাসপাতালে ভর্তি: আক্রান্তদের মধ্যে ৫০ হাজার ৫৫৮টি শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।
- সুস্থতার হার: চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে এ পর্যন্ত ৪৬ হাজার ২১৪ জন শিশু ঘরে ফিরে গেছে। বর্তমানে ৪ হাজারেরও বেশি শিশু চিকিৎসাধীন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও মাঠপর্যায়ের চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মোট আক্রান্তের একটি বড় অংশই ঢাকা ও এর আশেপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচির (EPI) বাইরে থেকে যাওয়া ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং সাম্প্রতিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মে মাসের তীব্র গরমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হামের লক্ষণ হিসেবে শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, লালচে দানা বা র্যাশ, সর্দি-কাশি এবং চোখের জল পড়া দেখা গেলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং পুষ্টিকর তরল খাবার নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR) জানিয়েছে, উপদ্রুত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালুর আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে।
📌 তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) হামবিষয়ক বিশেষ এপিডেমিওলজিক্যাল রিপোর্ট
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR) ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাচ্যনাট মিডিয়া সেল (সাংস্কৃতিক প্রতিবাদী উপাত্ত)
‘Today TV BD’ স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ ডায়েরি (মে ২০২৬)



