পুলিশের হিসাবে ১৩,৬৭৯ শিশু উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরেছে; মোট নিখোঁজের ১৩ শতাংশ এখনো অট্রেসড
ঢাকা | ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুকে নিখোঁজ হিসেবে সাধারণ ডায়েরি (GD) করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের (PHQ) সর্বশেষ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। কিন্তু এখনও ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান মেলেনি, যা মোট নিখোঁজ রিপোর্টের প্রায় ১৩ শতাংশ।
নিখোঁজ শিশুদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পর জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তর পৃথকভাবে এই তথ্য ব্যাখ্যা করেছে। পুলিশের বক্তব্য হলো, শুধু নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট প্রকাশ করলে প্রকৃত পরিস্থিতির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না; পরবর্তী সময়ে কতজন ফিরে এসেছে বা উদ্ধার হয়েছে, সেই তথ্যও বিবেচনায় নিতে হবে।
১০–১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি
পুলিশের যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশুকে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০৬ জন উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরেছে এবং ৬৮ জন এখনো নিখোঁজ।
অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর নিখোঁজ রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জন উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরেছে এবং ১ হাজার ৯৭০ জনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
এই বয়সভিত্তিক পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে চলে যাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সম্পর্ক, কর্মসংস্থানের প্রলোভন বা অন্যান্য সামাজিক কারণ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ভূমিকা রাখতে পারে—তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ এক নয়। তাই কোনো সাধারণ কারণ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
অনলাইন জিডির কারণে রিপোর্টও বেড়েছে
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অনলাইন GD সেবা চালুর পর নিখোঁজ-সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থাৎ রিপোর্ট বৃদ্ধির একটি অংশ নাগরিকদের সহজে পুলিশের কাছে তথ্য জানানোর সুযোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজ ব্যক্তিসংক্রান্ত GD হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি।
তাই নিখোঁজ রিপোর্টের সংখ্যা বাড়ছে মানেই একই হারে শিশু স্থায়ীভাবে নিখোঁজ হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে না।
তবু ২,০৩৮ শিশুর সন্ধান না পাওয়া বড় উদ্বেগ
পুলিশের পরিসংখ্যানে অধিকাংশ শিশুই উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরে এলেও ২,০৩৮ শিশুর এখনো সন্ধান না পাওয়া জননিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষার জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
এই শিশুদের ক্ষেত্রে তদন্ত কতটা এগিয়েছে, কতজন সম্ভাব্যভাবে পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে, কতজন স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে এবং কতজন অপরাধের শিকার হতে পারে—এসব আলাদা করে বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
নিখোঁজ শিশুকে দ্রুত শনাক্ত করাই প্রথম লড়াই
শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পরিবারের দ্রুত GD করা, ছবি ও পরিচয়ের তথ্য পুলিশকে দেওয়া এবং সম্ভাব্য অবস্থানের তথ্য সরবরাহ করা তদন্তে সহায়ক হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার সময়ও পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুর নিরাপত্তা যাতে আরও ঝুঁকিতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
📊 সাত মাসের চিত্র
• মোট নিখোঁজ শিশু: ১৫,৭১৭
• উদ্ধার/পরিবারে ফিরে এসেছে: ১৩,৬৭৯
• এখনো নিখোঁজ: ২,০৩৮
• ০–৯ বছর বয়সী নিখোঁজ: ৪৭৪
• ১০–১৭ বছর বয়সী নিখোঁজ: ১৫,২৪৩
• অট্রেসডের হার: প্রায় ১৩%
🧭 এখন নজর কোন দিকে
সন্ধান না পাওয়া ২,০৩৮ শিশুর পৃথক অবস্থা ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিখোঁজের পর উদ্ধার হওয়া শিশুদের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে কোন ধরনের ঝুঁকি বেশি, তা চিহ্নিত করতে পারলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা সম্ভব।
পুলিশের দেওয়া সংশোধিত হিসাব তাই শুধু একটি সংখ্যা নয়; এটি শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
তথ্যসূত্র: Police Headquarters, Bangladesh Police, The Daily Star, BSS।




