Homeনাগরিক দর্পণইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মোড়ে, ‘ইরানই এখন সুবিধাজনক অবস্থায়’—দাবি বিশ্লেষকদের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মোড়ে, ‘ইরানই এখন সুবিধাজনক অবস্থায়’—দাবি বিশ্লেষকদের

কুয়েতে হামলা, আলোচনার ভবিষ্যৎ ও পারমাণবিক জল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Today TV BD

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা, কূটনৈতিক বিরোধী বক্তব্য এবং পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন জল্পনার মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও গবেষক ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন তুলে ধরছেন।

এস্তোনিয়াভিত্তিক বাংলাদেশি অধ্যাপক ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষক আমরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিশ্লেষণে দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরান আগের তুলনায় আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

কী ঘটেছে?

লেখকের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের কেশম দ্বীপ এলাকায় সামরিক হামলা চালায়। ওয়াশিংটন এটিকে ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এর জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে বিমানবন্দর এলাকায় হামলার ঘটনা স্বীকার করে এবং হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানায়।

‘টিট-ফর-ট্যাট’ নীতি থেকে সরে গেছে ইরান?

আমরুল ইসলামের লেখায় মার্কিন-ইরানি বিশ্লেষক ত্রিতা পারসির বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, ইরান আর ‘সমপরিমাণ পাল্টা জবাব’ নীতিতে নেই; বরং আক্রমণের জবাবে আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখানোর কৌশল গ্রহণ করেছে।

তবে এ মূল্যায়ন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ট্রাম্প বনাম তেহরান: আলোচনা নিয়ে বিভ্রান্তি

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সক্রিয় আলোচনা চলছে না।

এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে নতুন জল্পনা

লেখায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক পেপে এসকোবারের একটি আলোচিত মন্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর সূত্র অনুযায়ী ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে।

তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো উপস্থাপিত হয়নি।

অন্যদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেয়েদ মোহাম্মদ মারান্দি বলেছেন, তাঁর কাছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে প্রযুক্তিগতভাবে ইরান চাইলে দ্রুত সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বিশ্লেষকদের ভিন্নমত

আমরুল ইসলাম তাঁর লেখায় মত দেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য নেই। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, সামরিক সংঘাতের প্রকৃত ফলাফল নির্ধারণে শুধু সামরিক হামলা নয়, অর্থনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক অবস্থান, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মধ্যপ্রাচ্যের জন্য কী বার্তা?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। যেকোনো বড় হামলা বা ভুল হিসাব যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সম্ভাবনাকেও ধ্বংস করতে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্যও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্পাদকীয় নোট

এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ অধ্যাপক আমরুল ইসলামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন মূল্যায়ন, পূর্বাভাস ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও উদ্ধৃত ব্যক্তিদের নিজস্ব মতামত। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। Today TV BD পাঠকদের সামনে আলোচিত মতামত ও বিতর্ক তুলে ধরছে; উল্লিখিত মতামতের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট বক্তা বা লেখকের।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments