আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Today TV BD
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নতুন করে জটিল আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। একই সময়ে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে “লজ্জাজনক” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি লেবাননের জনগণের একটি অংশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার রোডম্যাপ।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতিতে কিছু “অগ্রগতি” হয়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে এ পর্যন্ত ৩,৫২৬ জন নিহত এবং ১০,৭৩৩ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল)-এর ওপর হামলার ঘটনায় একজন শান্তিরক্ষী নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের একজন সেনা নিহত হয়েছে।
গাজাতেও হামলা অব্যাহত
লেবাননের পাশাপাশি গাজা উপত্যকাতেও সংঘাত থামেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ যুক্তরাষ্ট্র চাইলে উদ্ধার করতে পারে, তবে বর্তমানে তার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, “ইরান ভেনেজুয়েলার মতো নয়। সেখানে কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে অনেক সময় এবং ব্যাপক সরঞ্জামের প্রয়োজন হবে।”
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবাননকে ঘিরে চলমান এই বহুমাত্রিক সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ ব্যর্থ হলে অঞ্চলটি আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর পড়বে।
পরিস্থিতি এখন কোথায়?
- যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব হিজবুল্লাহ প্রত্যাখ্যান করেছে।
- লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
- গাজায়ও সংঘাত থামেনি।
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও বজায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হয় নাকি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।



