নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে সাগরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সর্বশেষ এ নিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
যেভাবে দুর্ঘটনা
বুধবার, ২১ অক্টোবর বিকেলে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়িতে মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। পর্যটকদের একটি দল সাগরে গোসল করতে গেলে প্রবল ঢেউ ও স্রোতে কয়েকজন ভেসে যান। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে আরও কয়েকজন পানিতে নেমেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, লাইফগার্ড ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সাগর নিবাস এলাকার কাছ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহত ও নিখোঁজদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য ছিল। তাই সর্বশেষ উদ্ধার-তথ্যের ভিত্তিতে সংখ্যা হালনাগাদ করা প্রয়োজন।
সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় বাড়লে সমুদ্রসৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে সতর্কতা, নজরদারি ও উদ্ধারব্যবস্থা কার্যকর রাখা জরুরি। দৃশ্যত শান্ত সমুদ্রেও হঠাৎ বড় ঢেউ, পানির নিচে গর্ত এবং তীব্র স্রোত বিপদ তৈরি করতে পারে। সৈকতে সতর্কতামূলক পতাকা, মাইকিং, উদ্ধারকর্মীদের উপস্থিতি এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ ঠেকানোর ব্যবস্থা পর্যটকদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পর্যটকদের জন্য সতর্কতা
সাগরে নামার আগে লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলা, সতর্কতামূলক পতাকা উপেক্ষা না করা এবং গভীর পানিতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তাসংশ্লিষ্টরা। কেউ স্রোতে ভেসে গেলে প্রশিক্ষণ ছাড়া ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেওয়াও বিপজ্জনক। দ্রুত লাইফগার্ড বা উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, নিউজ২৪, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।




