জামতলায় নিজ বাড়ি থেকে তিন সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার; পারিবারিক অশান্তি ও নির্যাতনের অভিযোগ স্বজনদের, মৃত্যুর কারণ জানতে অপেক্ষা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) | ১৮ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় হাসনেহেনা আক্তার (৩০) নামে তিন সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের জামতলা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ছেংগারচর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. শাহাবুদ্দিনকে (৪৬) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে হাসনেহেনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দাম্পত্য অশান্তি নিয়ে স্বজনদের অভিযোগ
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অন্য এক নারীর সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় হাসনেহেনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিস্থিতি মীমাংসার জন্য আগে পারিবারিকভাবে আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
হাসনেহেনার খালা সালমা বেগম বলেন, তাঁর ভাগনি মেধাবী ও ধৈর্যশীল ছিলেন। স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর পরিবারের পক্ষ থেকে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যে সমস্যার সমাধান হয়নি। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি চলছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের মা আফিয়া বেগমের সন্দেহ, তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করার দাবি জানিয়েছেন। তবে পরিবারের এসব অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসনেহেনার মরদেহ উদ্ধার করেন। থানার উপপরিদর্শক মো. বাবুলের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে মেঝেতে শুইয়ে রেখেছিলেন। তাঁর গলায় ব্যবহৃত ওড়নাটি তখন ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পরিস্থিতি, মরদেহের অবস্থা এবং আশপাশের আলামত তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তদন্তের ফলাফল প্রয়োজন।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, হাসনেহেনার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর কথা জানান তিনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসনেহেনার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যু হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারিত হবে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক আমার দেশ, চ্যানেল এস, কালবেলা, ফোকাস মোহনা।




