হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান। এতে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বেড়েছে। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জাহাজে হামলার সংখ্যা বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালির বাইরেও অভিযান বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
৪৮ ঘণ্টায় অন্তত পাঁচটি ঘটনা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে তেলবাহী ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে অন্তত পাঁচটি হামলা বা হামলার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ড্রোন হামলার ঘটনাও রয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্ত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে জাহাজে হামলার গতি সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে তেহরান তাদের বিধিনিষেধ অমান্যকারী জাহাজের বিরুদ্ধে হামলার ধরন ও গতি বদলাতে শুরু করে। তবে নতুন কৌশলের বিস্তারিত তারা প্রকাশ করেননি। মার্কিন এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের রাডার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর ছোট নৌযানে নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক ব্যবহার করে সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সংঘাতের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও জাহাজের বীমা খরচে চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ সামুদ্রিক তথ্যকেন্দ্রের সর্বশেষ মূল্যায়নে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকিকে ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখছে, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
সংঘাতের বিস্তার নিয়ে শঙ্কা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগর এবং কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছাকাছি জলসীমাতেও জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। একজন ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, তেহরান তাদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজের চলাচল আরও কঠোরভাবে ঠেকাতে পারে।
তবে ইরানের কৌশল নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি স্বাধীন সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো নিশ্চিত লক্ষণ নেই। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত থাকলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)




