Homeটুডে বাংলামতলব উত্তরে ২২ দিনের ইলিশ নিষেধাজ্ঞা শুরু, নদীতে নামতে পারবেন না ৯...

মতলব উত্তরে ২২ দিনের ইলিশ নিষেধাজ্ঞা শুরু, নদীতে নামতে পারবেন না ৯ হাজার ৪ জেলে

৭ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা ও ইলিশ কেনাবেচা বন্ধ

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) | ৮ অক্টোবর ২০২৬: মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নদী এলাকায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞার আওতায় মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে।

নদীতে নামা বন্ধ, নজরদারিতে একাধিক সংস্থা

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান চালাবে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী এলাকায় নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।

এর আগে ৭ অক্টোবর সকালে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে মা ইলিশ সংরক্ষণ নিয়ে টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং জেলে প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিয়মিত অভিযান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।

মতলব উত্তরে নিবন্ধিত জেলে ৯ হাজার ৪ জন

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৯ হাজার ৪ জন। নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের নদীতে নামতে দেওয়া হবে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই বড় জনগোষ্ঠীর আয়-রোজগারের ওপর সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।

আমিরাবাদ এলাকার জেলে হারাধন দাস জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা সরকারি চাল সহায়তা পান। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই সহায়তা কম হওয়ায় সহযোগিতার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি রয়েছে। জেলা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ থাকলেও তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা

প্রশাসন জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেছেন, মা ইলিশ শিকার করলে কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্সও জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে নামলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের নদী এলাকায় নিষেধাজ্ঞাটি শুধু মাছ ধরা বন্ধের একটি প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়; এর সঙ্গে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন, নদীর জীববৈচিত্র্য এবং হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকার বিষয়ও জড়িত। বিশেষ করে মতলব উত্তরের দীর্ঘ নদীপথে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নিয়মিত নজরদারি এবং জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: চাঁদপুর খবর, চাঁদপুর টাইমস, দৈনিক ইত্তেফাক, জাগো নিউজ২৪, বার্তা বাজার, চ্যানেল এস, মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments