Homeটুডে বাংলাদুই মাস পর আবার চালু হচ্ছে মহেশখালীর সড়ক প্রকল্প

দুই মাস পর আবার চালু হচ্ছে মহেশখালীর সড়ক প্রকল্প

কালারমারছড়া থেকে জে.এম.ঘাট সড়কের প্রায় ৩.৭০ কিলোমিটার অংশ নিয়ে যে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তা নিষ্পত্তি করেছে। ফলে কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রস্তাবিত এই সড়ক উন্নয়ন কাজের তাৎক্ষণিক বাধাও কেটেছে।

সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-এর আওতায় বাস্তবায়ন করছে, যার অর্থায়নে রয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-এর একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি কার্যক্রমটি শুরু হয়। আবেদনে  অভিযোগ করা হয়, সড়কের একটি অংশ মহেশখালী পাহাড় মৌজার সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে এবং প্রযোজ্য বন ও পরিবেশগত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ভাষ্য মতে, প্রস্তাবিত কাজটি নতুন কোনো সড়ক করিডোর নির্মাণ নয়; বরং বিদ্যমান সড়কপথের উন্নয়ন। এ বিষয়ে সড়কের অ্যালাইনমেন্ট ম্যাপ, প্রকল্প-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দলিল যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বন বিভাগের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত এলাকা ও বনভূমি সংক্রান্ত রেকর্ড থাকলেও সেখানে কালারমারছড়া-জে.এম.ঘাট সড়কের অ্যালাইনমেন্ট কিংবা মহেশখালী পাহাড় মৌজাকে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা নেই। তবে বন বিভাগের রেকর্ডে কাছাকাছি গেজেটভুক্ত একমাত্র এলাকা ফাসিয়াখালী বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে চিহ্নিত আছে, যা চকরিয়া উপজেলায়অবস্থিত।

এসব অভিযোগ এর ভিত্তিতে গত ৬ আগস্ট ৯২৭৫/২০২৬ নম্বর রিট পিটিশনে রুল জারি করে সড়কের প্রায় ৩. ৭০ কিলোমিটার অংশে দুই মাসের জন্য কাজ বন্ধ রাখার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে ৩২১৪/২০২৬ নম্বর সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দাখিল করা হয় এবং ৮ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের ১ নম্বর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়এবংসেখান থেকে‘ডিসপোসড অব স্টে’ বা স্থগিতাদেশ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত আসে। পরবর্তীতে আদালতের কার্যতালিকার রেকর্ডেও এই তথ্য প্রকাশিত হয়। এর ফলে, প্রযোজ্য আইন, পরিবেশগত শর্তাবলি, অনুমোদিত প্রকল্প নথি ও আদালতের যেকোন পরবর্তী নির্দেশ মেনে এলজিইডি ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

এসসিআরডিপি-এমও-ইউ-আরবি১৬ এবং এলজিইডি রোড আইডি ৪২২৪৯৩০০৭ হিসেবে চিহ্নিত এই সড়কটি কালারমারছড়া থেকে জে.এম.ঘাট পর্যন্ত সংযোগকারী প্রায় ৪.৮৮ কিলোমিটার করিডোরের অংশ।প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, SCRDP-এর আওতায় কার্যক্রম শুরুর আগেই সড়কটি বিদ্যমান ছিল। সড়কটির কিছু অংশ মাটির, আর কিছু অংশে ইটের সলিং করা ছিল।প্রস্তাবিত উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে আরসিসি পেভমেন্ট, ড্রেনেজ, কালভার্ট, পাহাড়ি ঢাল সংরক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

উন্নয়নকাজের সময় পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সড়কের সীমানা ঠিক করা, পাহাড় কাটা ও ঢালের কাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা, পানি নিষ্কাশন ও মাটি ক্ষয়রোধের ব্যবস্থা, প্রয়োজন ছাড়া গাছ না কাটা, কাটা গাছের বদলে নতুন গাছ লাগানো এবং নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করবে এসসিআরডিপি।

সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে কালারমারছড়া ও জে.এম.ঘাটের মধ্যে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার থেকে কমে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে । এর ফলে কালারমারছড়া, শাপলাপুরসহ উত্তর মহেশখালীর জনগোষ্ঠীর বাজার, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দৈনন্দিন যাতায়াত ও অন্যান্য কাজ আরওসহজতর  ও গতিশীল করে তুলবে । এছাড়া,সড়কটি স্থানীয়দের সঙ্গে মাতারবাড়ী অঞ্চলের সংযোগও জোরদার করবে।মাতারবাড়ীতে বর্তমানেগভীর সমুদ্র বন্দর, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বড় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আপিল বিভাগে স্থগিতাদেশ-সংক্রান্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ায়, প্রযোজ্য আইন, পরিবেশগত প্রয়োজনীয়তা, অনুমোদিত প্রকল্প দলিলপত্র এবং আদালতের পরবর্তী যে কোনো আদেশ সাপেক্ষে, এলজিইডি ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান সড়কপথের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments