Homeটুডে বাংলাএলপিজি বাজারে ‘সংকট’ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য, আমদানি পর্যাপ্ত বলছেন অপারেটররা

এলপিজি বাজারে ‘সংকট’ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য, আমদানি পর্যাপ্ত বলছেন অপারেটররা

ভোক্তাদের অভিযোগ সিলিন্ডার মিলছে না, কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকার বেশি; সরকারকে মজুদদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সতর্ক করা হয়েছে

দেশে এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস নিয়ে বাজারে দুই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। আমদানিকারক ও অপারেটররা সরকারের কাছে বলেছেন, দেশে এলপিজির মোট সরবরাহ ও মজুদ সন্তোষজনক। একই সময়ে বিভিন্ন এলাকার ভোক্তা ও বিক্রেতারা সিলিন্ডার না পাওয়া এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনার অভিযোগ করছেন।

২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বৈঠকে অপারেটররা মন্ত্রীকে জানান, বাজারে এলপিজির সংকট নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বাংলাদেশ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি করেছে। ১ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন।

তাহলে ভোক্তা কেন সিলিন্ডার পাচ্ছেন না

ঢাকা ও কিছু এলাকায় সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ গত কয়েক দিন ধরে সামনে এসেছে। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে ভোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক দোকানে নির্দিষ্ট কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিকল্প কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে বাড়তি অর্থ দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে এলপিজি আমদানি আগস্টের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে এবং বাজারের কিছু অংশে ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার বদলে ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকারকেরা এই চাপের পেছনে জাহাজ চলাচলে সমস্যা, পরিবহন ব্যয় ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবের কথা বলেছেন।

সরকার কী বলছে

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অপারেটরদের বলেছেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতি সৃষ্টি করা যাবে না। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতাও দিয়েছেন তিনি।
এখানে আমদানি, মজুদ ও খুচরা বাজার—তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা মানেই প্রতিটি এলাকার দোকানে একই সময়ে সব ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার পাওয়া যাবে—এমন নয়। পরিবহন, ডিলার নেটওয়ার্ক, ব্র্যান্ডভিত্তিক সরবরাহ ও স্থানীয় বাজারব্যবস্থাপনার কারণে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

এখন নজর কোথায়

এলপিজি বাজারে সরকারের সামনে মূল কাজ হলো নির্ধারিত দাম বাস্তবে মানা হচ্ছে কি না, সরবরাহ কোথায় আটকে আছে এবং কোথাও মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না—এসব দ্রুত যাচাই করা। কারণ রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য কয়েকশ টাকা বাড়তি দামও সরাসরি মাসিক ব্যয়ে প্রভাব ফেলে।

তথ্যসূত্র: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ; বিডিনিউজ২৪; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; বিএআরসি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments