৭ হাজার ৭৩৩ নিশ্চিত রোগী, মৃত্যু ৩ হাজার ৭৩২; দক্ষিণ সুদানের সীমান্তঘেঁষা নতুন এলাকায় সংক্রমণ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও। ২৩ সেপ্টেম্বর শিনহুয়া, ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ৭ হাজার ৭৩৩টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ৩ হাজার ৭৩২টি মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। সংক্রমণ দেশের সাতটি প্রদেশের ৬৩টি স্বাস্থ্যাঞ্চলে ছড়িয়েছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে নতুন ভৌগোলিক বিস্তার। দক্ষিণ সুদানের সীমান্তঘেঁষা হো-উতুয়েলে প্রদেশের দুঙ্গু এলাকায় নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সীমান্তের কাছে নতুন রোগী পাওয়ায় প্রতিবেশী দেশে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে।
কেন নিয়ন্ত্রণ কঠিন
ডব্লিউএইচও বলছে, রোগী বাড়ার পাশাপাশি সংক্রমণ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ইতুরি প্রদেশে এখনো সংক্রমণের চাপ বেশি। উত্তর কিভুতেও চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি এবং দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি বান্দিবুগিও ভাইরাসের কারণে হচ্ছে। এটি ইবোলা ভাইরাসের একটি ধরন। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই ধরনটির বিরুদ্ধে প্রচলিত ইবোলা টিকার কার্যকারিতা এখনো মানুষের ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। তাই নির্দিষ্ট গবেষণা কাঠামোর মধ্যে টিকা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসা কেন্দ্রে চাপ
কঙ্গোর উত্তর কিভু প্রদেশে ইবোলা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর ওপর বড় চাপ রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা সক্ষমতার খুব কাছাকাছি চলে গেছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত মৃত্যুর বড় একটি অংশ হাসপাতালের বাইরে ঘটছে, যা রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরির ইঙ্গিত দেয়।
ইবোলায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফল তুলনামূলকভাবে ভালো হওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু দুর্গম এলাকা, সড়ক যোগাযোগের সমস্যা, সংঘাত ও স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকটের কারণে রোগী দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো সবসময় সম্ভব হচ্ছে না।
সীমান্তে নজরদারি
ডব্লিউএইচও বলছে, বিমানবন্দর, বন্দর ও সরকারি সীমান্তপথে নজরদারি চালু রয়েছে। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক সীমান্তপথ দিয়ে মানুষের চলাচল অব্যাহত থাকায় ভাইরাস অন্য দেশে পৌঁছে যেতে পারে। এই কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত নজরদারি এবং প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ ঝুঁকি মূল্যায়নে বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি এখনো কম হিসেবে বিবেচিত। কঙ্গোর জন্য ঝুঁকি খুব বেশি এবং স্থলসীমান্ত ভাগ করা প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি বেশি বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
গবেষণা ও টিকা
ইবোলার বান্দিবুগিও ধরন নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসা ও টিকা-সংক্রান্ত গবেষণা চলছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে টিকাদানও চলছে। পাশাপাশি রোগীদের জন্য কার্যকর চিকিৎসা খুঁজতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন রোগের ভৌগোলিক বিস্তার থামানো। নতুন এলাকায় রোগী শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণ অনুসরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নজরদারি এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না গেলে সংকট আরও বড় হতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা; শিনহুয়া; রয়টার্স; ডব্লিউএইচও আফ্রিকা আঞ্চলিক কার্যালয়।




