ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও হাগিং ফেসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ; এআই দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা মাপার মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার আলোচনার সরাসরি অংশ। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও হাগিং ফেসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্রিফ করার কথা রয়েছে। বৈঠকে উন্নত এআই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর প্রভাব এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হবে।
ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এবং হাগিং ফেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্লেমঁ দেলাংয়ের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকটির সভাপতিত্ব করবেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো।
নিরাপত্তা মাপার পদ্ধতি
রয়টার্স জানিয়েছে, স্যাম অল্টম্যান বিশ্বনেতাদের এআইয়ের সক্ষমতা পরিমাপের জন্য অভিন্ন বেঞ্চমার্ক বা মানদণ্ড তৈরির আহ্বান জানাতে পারেন। একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি তার এআই ব্যবস্থায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছে, সেটিও কীভাবে যাচাই করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
এআই নিয়ে উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি। কিছু উন্নত মডেল আগের প্রজন্মের তুলনায় জটিল কাজ বেশি দক্ষতার সঙ্গে করতে পারছে। ফলে সফটওয়্যার, সাইবার নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামরিক ব্যবস্থায় এর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছে।
যুদ্ধের সঙ্গে এআইয়ের সম্পর্ক
জাতিসংঘের কূটনীতিকদের একটি উদ্বেগ হলো, একাধিক স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থা যদি মানুষের পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়া একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল তথ্যের কারণে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এক ইউরোপীয় কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেছেন, অ্যালগরিদমের পারস্পরিক ক্রিয়া কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে কি না, যাতে একটি সংঘাতের সূত্রপাত হয়—এটি নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার অন্যতম প্রশ্ন।
এই আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এআই ও অস্ত্রব্যবস্থা। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার বিদায়ী সাধারণ অধিবেশন ভাষণে স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবস্থার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের আলাদা আলোচনা
এআই নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বন্দ্বগুলোর একটি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে। দুই দেশ প্রযুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এআই-সম্পর্কিত বড় নিরাপত্তা ঘটনার ক্ষেত্রে একে অপরকে দ্রুত জানানোর একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। বিষয়টি ২৪ সেপ্টেম্বরের ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগেই সামনে এসেছে।
অর্থাৎ এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও বড় দুর্ঘটনা বা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দিলে যোগাযোগ রাখার প্রয়োজন দুই দেশই অনুভব করছে।
একই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণে আন্তর্জাতিকভাবে এআই নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এআইয়ের উন্নয়ন ধীর করতে চান না এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রযুক্তিতে এগিয়ে রাখতে চান।
অন্যদিকে জাতিসংঘের ভেতরে আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক নজরদারির পক্ষে আলোচনা চলছে। ২০টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও এআইয়ের জন্য অভিন্ন নিরাপত্তা মান ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো নিয়ে উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।
এআই এখন তাই শুধু প্রযুক্তি শিল্পের বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কে প্রযুক্তির সীমা নির্ধারণ করবে—এই প্রশ্নও বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রীয় আলোচনায় চলে এসেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স; জাতিসংঘ; আল জাজিরা; ওপেনএআই ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।




