দূরপাল্লার বাসে ভাড়া ১৭ পয়সা বেড়ে ২ টাকা ৪০; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরে ২ টাকা ৭০ টাকা, নতুন হার কার্যকর মঙ্গলবার থেকে
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর পর এবার বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা প্রতি কিলোমিটার। নতুন ভাড়া মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।
নতুন হিসাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই নতুন হার গ্যাসচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। প্রতিটি বাস ও মিনিবাসে দৃশ্যমান স্থানে নতুন ভাড়ার তালিকা টানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন বাড়ল ভাড়া
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবহনের বর্তমান পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ায়। সেই সিদ্ধান্তের পরই পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে নতুন ভাড়ার দাবি ওঠে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণসংক্রান্ত আগের সব প্রজ্ঞাপন ও আদেশ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব বাসে অনুমোদিত আসনসংখ্যা কমিয়ে আরামদায়ক যাত্রার নামে আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ভাড়া আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে।
যাত্রীদের ওপর কতটা প্রভাব
বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়লেও বাস্তবে একজন যাত্রীর দৈনিক যাতায়াত খরচ কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে যাত্রার দূরত্ব ও সংশ্লিষ্ট রুটের ভাড়ার ওপর। ঢাকা ও চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন ভাড়া অপরিবর্তিত থাকলেও দীর্ঘ পথের যাত্রায় বাড়তি অর্থ দিতে হবে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর ইতোমধ্যে বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় এখন সরকারি নির্ধারিত হারই অনুসরণ করার কথা।
জ্বালানি ব্যয়ের এই চাপ শুধু বাসভাড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পণ্য পরিবহন, কৃষির সেচ, শিল্পকারখানার জেনারেটর এবং অন্যান্য ডিজেলনির্ভর কার্যক্রমেও খরচ বাড়ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও ২৩ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে বলেছে, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ একাধিক কারণ বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।
নজর থাকবে ভাড়ার বাস্তব প্রয়োগে
নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে—বাসে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া ঠেকানো যায় কি না। ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখার সরকারি নির্দেশ থাকলেও সড়কে এর বাস্তব প্রয়োগ ও নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে গ্যাসচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে পুরোনো হার বহাল থাকায় যাত্রীদের জন্য একই শহরে ভিন্ন জ্বালানিনির্ভর পরিবহনে ভাড়ার পার্থক্যও তৈরি হবে। ফলে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের পর পরিবহনব্যবস্থায় নজরদারি ও যাত্রী হয়রানি ঠেকানো এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র: সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ; বিডিনিউজ২৪; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; রয়টার্স।




