Homeটুডে ওয়ার্ল্ডরাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে নজর

রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে নজর

ইউক্রেনে রুশ হামলায় পাঁচজন নিহতের খবর; রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার দাবি

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর এপি জানিয়েছে, রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের কুইবিশেভ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে সেখানে আগুন লাগিয়েছে বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এই হামলা এমন সময়ে হয়েছে, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গেছেন। সেখানে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের একটি পারস্পরিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা তোলার প্রস্তুতি চলছে।

শীতের আগে বিদ্যুৎ অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন আশঙ্কা করছে শীত আসার আগে রাশিয়া দেশটির বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহব্যবস্থার ওপর আরও বড় আক্রমণ চালাতে পারে। এরই মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর, গুদাম ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্যপথও চাপের মধ্যে পড়েছে।

ইউক্রেন চাইছে অন্তত জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৃষিপণ্য পরিবহনকে হামলার বাইরে রাখার বিষয়ে একটি সমঝোতা হোক। জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া এসব স্থাপনায় হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও পাল্টা একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে। তবে মস্কো এখনো এ ধরনের কোনো বিস্তৃত সমঝোতায় রাজি হয়েছে—এমন স্পষ্ট বার্তা দেয়নি।

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা

পাল্টা হিসেবে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করছে। এপির প্রতিবেদনে সামারা অঞ্চলের কুইবিশেভ শোধনাগারে আগুন লাগার কথা বলা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বহু ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রের এসব দাবি স্বাধীনভাবে সব ক্ষেত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা যুদ্ধের সামরিক প্রভাবের বাইরে অর্থনৈতিক প্রভাবও তৈরি করছে। তেল পরিশোধন, পরিবহন ও রপ্তানি সক্ষমতা ব্যাহত হলে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাসব্যবস্থায় হামলা হলে সাধারণ মানুষের জীবন, শিল্প উৎপাদন ও শীতকালীন গরমের ব্যবস্থা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কূটনীতির নতুন সুযোগ কোথায়

রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন-রাশিয়া জ্বালানি যুদ্ধ নিয়ে সম্ভাব্য বিরতির ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বৈঠকেরও সূচি রয়েছে।

তবে সামরিক হামলা যখন চলছে, তখন কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তব সমঝোতায় রূপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। জাতিসংঘের অধিবেশনের বাইরে ট্রাম্প, জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের আলোচনায় যুদ্ধের পরবর্তী পথ কতটা স্পষ্ট হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স; এপি; দ্য গার্ডিয়ান; আল জাজিরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments