১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোয় নিশ্চিত রোগী ৭ হাজার ৬৭২; শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গোয় বান্দিবুগিও ধরনের ইবোলা সংক্রমণ এখনো বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হয়ে আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ দৈনিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ৭ হাজার ৬৭২টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ৩ হাজার ৬৯৯টি নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ৪৮ শতাংশ।
এই প্রাদুর্ভাবটি মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তার আগেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল। সেপ্টেম্বরে এটি ডিআর কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে।
সাতটি প্রদেশে ছড়িয়েছে সংক্রমণ
শিনহুয়ার ২০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিআর কঙ্গোর সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী নিশ্চিত সংক্রমণ ৭ হাজার ৫৪১ এবং মৃত্যু ৩ হাজার ৬৩৯-এ পৌঁছেছিল। তখন সংক্রমণ সাতটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। এর পরের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৈনিক হিসাবে সংখ্যা আরও বেড়েছে।
ইতুরি অঞ্চল এখনো প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি। তবে নর্থ কিভু ও অন্যান্য নতুন এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কোনো একটি অঞ্চলে রোগী কমে গেলেই পুরো দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
শিশুদের জন্য ঝুঁকি বেশি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিশ্চিত আক্রান্তদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু হলেও মোট মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশুদের মধ্যে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৬০ শতাংশের বেশি, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি ৩০ শতাংশের নিচে।
এর পেছনে রোগের পাশাপাশি চিকিৎসাসুবিধা, ওষুধ ও শিশুদের জন্য উপযোগী চিকিৎসা সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতাও ভূমিকা রাখছে। দুর্গম এলাকা, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি আক্রান্ত মানুষদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা আরও কঠিন করে তুলছে।
টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে
বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি বান্দিবুগিও ভাইরাসের কারণে হওয়ায় এর বিরুদ্ধে অনুমোদিত নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা এখনো নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রচলিত ইবোলা টিকা আরভেবোর বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই এটি গবেষণা কর্মসূচির আওতায় ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিআর কঙ্গোতে এরই মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী ও সামনের সারির কর্মীদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং টিকার কার্যকারিতা যাচাই করতে গবেষণাও চলছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
সীমান্ত নিয়েও সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ডিআর কঙ্গোর বাইরে উগান্ডা ও ফ্রান্সেও আমদানিকৃত বা সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলো সীমান্ত নজরদারি জোরদার করছে। তবে বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি এখনো কম বলে WHO-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত রোগী শনাক্ত করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা এবং দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া। ইবোলা নিয়ন্ত্রণে কেবল চিকিৎসা নয়, নিরাপদ দাফন, জনসচেতনতা ও স্থানীয় মানুষের আস্থা তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা; ডিআর কঙ্গো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ; ডিডব্লিউ; এএফপি; শিনহুয়া; রয়টার্স।




