এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান; যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যৌথ ঘোষণায় নেই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিকাশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ এসেছে। ২০টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলেছে, যেখানে এআইয়ের জন্য অভিন্ন নিরাপত্তা মান নির্ধারণ, বড় ধরনের দুর্ঘটনার তথ্য বিনিময় এবং প্রয়োজন হলে প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাই করা যাবে। ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত যৌথ ঘোষণার বিষয়টি ২২ সেপ্টেম্বর আল জাজিরা তুলে ধরেছে।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, এআইকে মানুষের নির্দেশ, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা জরুরি। প্রযুক্তির সুফল যেন কেবল কিছু উন্নত দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, একই সঙ্গে এআইয়ের ঝুঁকি কমাতেও সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
প্রস্তাবদাতা দেশগুলো এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলেছে, যা এআইয়ের নিরাপত্তা মান তৈরিতে সহায়তা করবে, এসব মান যাচাইয়ের সুযোগ দেবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সক্ষমতা নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালে দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা আয়োজন করতে পারবে।
এই উদ্যোগের পেছনে এআই ব্যবস্থার দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এবং কিছু পরীক্ষামূলক মডেলের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। এআই খাতের কিছু শীর্ষ ব্যক্তিও সম্প্রতি উন্নত এআই তৈরির গতি কমিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন কোথায়
বিশ্বের দুই বড় এআই শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেনি। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিং প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় একে অপরের বিরুদ্ধে নানা বিধিনিষেধ জারি রেখেছে। তবে এআই নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলাদা আলোচনা চলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা এআই প্রতিষ্ঠান ডিপসিককে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিফিং দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের প্রতিনিধিদেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এআই এখন শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়
এআই নিয়ে আলোচনার কেন্দ্র এখন সফটওয়্যার বা চ্যাটবটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার নিরাপত্তা, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি অবকাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থা এবং তথ্যপ্রবাহের সঙ্গে প্রযুক্তিটির সম্পর্ক ক্রমেই বাড়ছে। এ কারণে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্তও ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অংশ হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের এই সপ্তাহে তাই এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি সমান্তরাল আলোচনা চলছে। একদিকে রয়েছে বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির আহ্বান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মতো বড় প্রযুক্তি শক্তির নিজস্ব প্রতিযোগিতা। এই দুই পথ ভবিষ্যতে এক জায়গায় মিলবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা; রয়টার্স; এপি; জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট তথ্য।




