Homeটুডে ওয়ার্ল্ডপোল্যান্ডে রুশ হামলার আশঙ্কায় সামরিক বিমান উড়াল, পরে আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলেনি

পোল্যান্ডে রুশ হামলার আশঙ্কায় সামরিক বিমান উড়াল, পরে আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলেনি

ইউক্রেনে রুশ হামলার পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক, কয়েক ঘণ্টা পর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরে

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর শনিবার পোল্যান্ড তার সামরিক বিমান চলাচল ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় নেয়। পোলিশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রতিরোধমূলক সামরিক বিমান অভিযান চালানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে এবং ওই সময় পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা রেকর্ড হয়নি।

পোলিশ সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার নজরদারি এবং সামরিক বিমানকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর এসব ব্যবস্থা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ইউক্রেনে হামলার পর সতর্ক পোল্যান্ড

১৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়া ইউক্রেনের কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ২০ জনের বেশি আহত হন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিয়েভ, ওডেসা ও জাপোরিঝিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া যায়।

রাশিয়ার হামলার একটি অংশ পোল্যান্ড সীমান্তের তুলনামূলক কাছাকাছি এলাকায় হওয়ায় ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আবারও আলোচনায় এসেছে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রুশ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও অনুপ্রবেশ নিয়ে পোল্যান্ডকে কয়েক দফা সতর্ক অবস্থায় যেতে হয়েছে।

সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি

পোল্যান্ডের প্রতিরোধমূলক অভিযান মূলত সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছিল। দেশটির স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়। তবে শনিবার দিনের শেষে পোলিশ সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে তাদের আকাশসীমায় কোনো অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে একই ধরনের পরিস্থিতিতে পোল্যান্ড সামরিক বিমান উড়িয়ে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ইউক্রেনের যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলোও তত বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ও নজরদারি জোরদার করছে।

নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্ন

ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শুধু দুই দেশের সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই। ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ কিংবা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের বিস্তৃতি প্রতিবেশী ন্যাটো দেশগুলোকে সরাসরি সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ড ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে আসছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। ফলে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিটি বড় হামলার প্রভাব সীমান্তের বাইরেও নিরাপত্তা হিসাব বদলে দিচ্ছে।

শনিবারের ঘটনায় পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘিত না হলেও সামরিক প্রস্তুতি নেওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, ইউক্রেনে বড় ধরনের রুশ হামলা হলে প্রতিবেশী ন্যাটো দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করছে। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক হলেও যুদ্ধ যতদিন চলবে, সীমান্তবর্তী দেশগুলোর এই উচ্চ সতর্কতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), আল জাজিরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments