চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা ১৭৬; সেপ্টেম্বরেই মৃত্যু ৭৯, হাসপাতালে ভর্তি ৫৮ হাজার ৪০০
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, এ বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৮ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৯২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
সেপ্টেম্বরে মৃত্যুই সবচেয়ে বেশি
চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবেও সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক। শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটাই এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
সর্বশেষ পাঁচ মৃত্যুর মধ্যে চারজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার এবং একজন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা। একই ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালগুলোতেও বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ওই সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০৭ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৯০ জন, বরিশালে ২১১, চট্টগ্রামে ১৯২, খুলনায় ২৫২, ময়মনসিংহে ৬৪, রাজশাহীতে ১০২, রংপুরে ৩৪ এবং সিলেটে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুধু রাজধানী নয়, বাড়ছে জেলা পর্যায়েও
ডেঙ্গু এখন শুধু ঢাকা শহরকেন্দ্রিক নয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে জেলা হাসপাতালগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই ডেঙ্গু দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতালের শয্যার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী আবহাওয়া থাকলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
প্রতিরোধে কী করা দরকার
ডেঙ্গুর চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই রোগী আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার বন্ধ করাই নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।
বাড়ি, অফিস, দোকান, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পুরোনো টায়ার, পরিত্যক্ত কৌটা ও ছাদে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জায়গা হতে পারে।
জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও যদি পেটে ব্যথা, বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, রক্তপাত বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর ৫৮ হাজারের বেশি হাসপাতালে ভর্তি ও ১৭৬ মৃত্যু দেখাচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাসে পরিস্থিতি কত দ্রুত বদলাতে পারে। তাই হাসপাতালের চিকিৎসার পাশাপাশি মশকনিধন ও প্রজননস্থল ধ্বংসে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত অভিযান চালানোই এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর একটি।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিডিনিউজ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, রয়টার্স, প্রথম আলো।




