ফরাজীকান্দির দক্ষিণ রামপুর–কাচারিকান্দি খাল দীর্ঘদিন ধরে পলি ও কচুরিপানায় সংকুচিত ছিল
মতলব উত্তর, চাঁদপুর
বর্ষায় পানি জমে থাকা ও দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা কমাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর–কাচারিকান্দি খাল খনন শুরু হয়েছে। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন এই খালটির খনন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি।
স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ রামপুর–কাচারিকান্দি খালটি দীর্ঘদিন ধরে পলি, কচুরিপানা ও নানা ধরনের আবর্জনায় অনেকটা ভরাট হয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমে যায়। বর্ষা কিংবা টানা বৃষ্টি হলে পানি দ্রুত বের হতে না পেরে আশপাশের বাড়িঘর, রাস্তা ও কৃষিজমিতে পানি জমে থাকত।
সামান্য বৃষ্টির পরও অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় কয়েক হাজার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হতো বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, খালটি দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনে আগের মতো ভূমিকা রাখতে পারছিল না। খনন কাজ শেষ হলে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং স্থানীয় মানুষের জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটির বিভিন্ন অংশে মাটি ও পলি জমে নালা অনেকটাই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল। বর্ষার পানি নামতে দেরি হওয়ায় একদিকে যেমন বাড়িঘরে পানি উঠত, অন্যদিকে কৃষিজমি নিয়েও সমস্যায় পড়তে হতো।
খাল খননের কাজ শুরু হওয়ায় এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পানি চলাচলের পথ পরিষ্কার হলে বর্ষাকালে পানি দ্রুত নেমে যাবে। একই সঙ্গে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা কমবে এবং রাস্তা ও বসতবাড়িতেও পানি জমে থাকার সময় কমে আসবে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু খাল খনন করলেই কাজ শেষ হবে না। খননের পর খালটি আবার যাতে মাটি, আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
এই খালটি মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় খনন কাজটি স্থানীয় কৃষি ও জনজীবনে কতটা সুবিধা আনে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
খাল খননের উদ্বোধনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: চাঁদপুর খবর, স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য।




