জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর নতুন করে সামনে এসেছে সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, সম্পদ জব্দ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার দেওয়া এই রায়ের পর বুধবারও দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মামলার অভিযোগ, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
যে মামলায় সাতজনের সর্বোচ্চ সাজা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরে। শুনানি ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ বিবেচনার পর ট্রাইব্যুনাল সাত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার রায়ের বিস্তারিত অংশে কোন আসামির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালত-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজেদের অবস্থানও জানিয়েছে।
সম্পদ জব্দের আদেশও এসেছে
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি কয়েকজন আসামির সম্পদের একটি অংশ জব্দের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজনের সম্পদের অর্ধেক জব্দ করে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ক্ষেত্রে এই সম্পদ জব্দের নির্দেশ আলাদা।
এর মাধ্যমে মামলার রায় শুধু কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে সীমিত থাকেনি; নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিচারিক আদেশের অংশ হয়েছে।
রায়ের পর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ
মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর রাজধানীর সুপ্রিম কোর্টের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবারও ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম পরে বলেছেন, রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টিকে তারা আলাদা ঘটনা হিসেবেই দেখছেন।
সামনে থাকছে আরও আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন
মামলার রায় ঘোষণার পর এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ, দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এবং আসামিদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। একই সঙ্গে এই রায় বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহিংসতার বিচার এবং রাজনৈতিকভাবে আলোচিত মামলাগুলোর ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছে।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২ আরও একটি আদালত অবমাননার বিষয়েও আদেশ দিয়েছে। রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের কারণে দুই আইনজীবীকে ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
ফলে মঙ্গলবারের রায় ঘোষণার পর বিচারপ্রক্রিয়া থেমে যায়নি; বরং এর আইনি ও প্রশাসনিক পরবর্তী ধাপগুলোও এখন সামনে আসছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, জাগো নিউজ ২৪।




