৭ হাজার ২০০-এর বেশি নিশ্চিত আক্রান্ত ও ৩ হাজার ৫১০ মৃত্যু; উত্তর কিভুতে গত ২১ দিনে ৫৫৫ নতুন রোগী শনাক্ত
কিনশাসা | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গোয় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের নতুন সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে। তবে জাতিসংঘ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো গুরুতর এবং প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে খারাপ সময় পেরিয়ে গেছে—এ কথা বলার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৭ হাজার ২০০-এর বেশি নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্ত এবং ৩ হাজার ৫১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত এলাকা একাধিক প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হচ্ছে।
দৈনিক নতুন রোগী কিছুটা কমেছে
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে প্রাদুর্ভাবের শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি নতুন কেস পাওয়া যাচ্ছিল। এখন সেই সংখ্যা প্রায় ৮০-তে নেমে এসেছে।
আক্রান্ত ৬২টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে ১০টিতে ২২ দিনের বেশি সময় ধরে নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। ইতুরি প্রদেশের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উত্তর কিভুতে এখনো বড় উদ্বেগ
সব অঞ্চলে পরিস্থিতি একই রকম নয়। উত্তর কিভুতে নতুন সংক্রমণ এখনো বাড়ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত ২১ দিনে উত্তর কিভুতে ৫৫৫টি নতুন কেস শনাক্ত হয়েছে। নিরাপত্তা সমস্যা, মানুষের চলাচল এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের বিভিন্ন বাধা সেখানে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কেন ইবোলা এত বিপজ্জনক
ইবোলা একটি গুরুতর ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন তরলের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত ও আলাদা করা, তার সংস্পর্শে আসা মানুষদের নজরদারিতে রাখা, নিরাপদ দাফন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভ্যাকসিন নিয়েও রয়েছে সীমাবদ্ধতা
ডিআর কঙ্গো সম্প্রতি ৭০ হাজারের বেশি Ervebo ভ্যাকসিন পেয়েছে। তবে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট Bundibugyo ধরনের ইবোলা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা Zaire ধরনের ভাইরাসের মতো প্রতিষ্ঠিত নয়।
এ কারণে টিকাদানের পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সমান গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও সতর্কতা
ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে একাধিক দেশের সীমান্ত রয়েছে। মানুষের চলাচল অব্যাহত থাকায় বড় আকারের ইবোলা প্রাদুর্ভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো ডিআর কঙ্গোর আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখা।
উন্নতির লক্ষণ আছে, কিন্তু ঝুঁকি কাটেনি
দৈনিক সংক্রমণ কমে আসা অবশ্যই ইতিবাচক লক্ষণ। কিন্তু ইবোলার মতো রোগের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের উন্নতি দেখেই প্রাদুর্ভাবের শীর্ষ পেরিয়ে গেছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
বিশেষ করে উত্তর কিভুর মতো এলাকায় নতুন রোগী বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্কতা ও নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের অবস্থানও তাই সতর্ক। সংক্রমণ টানা কমতে থাকা এবং নতুন কেসের উৎস নিয়ন্ত্রণে আসার প্রমাণ আরও কিছুদিন পাওয়া না গেলে বড় ধরনের স্বস্তির জায়গায় যাওয়ার সুযোগ নেই।
তথ্যসূত্র: Reuters, United Nations, WHO, The Guardian।




