সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ East-West তেল পাইপলাইন ড্রোন হামলার পর বন্ধ; মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করছে
লন্ডন/দুবাই | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের নতুন বিস্তারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আবারও বড় ধাক্কা লেগেছে। সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ East-West তেল পাইপলাইন ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এর পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে Brent crude-এর দাম ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়। একই সময়ে যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দামও দ্রুত বেড়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ দুটি—হরমুজ ও Bab el-Mandeb—একই সময়ে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে পড়ায় উদ্বেগ এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
হরমুজে কতটা কমেছে জাহাজ চলাচল
Reuters-এর সাম্প্রতিক vessel-tracking তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ দিয়ে মাত্র চারটি commodity vessel উপসাগর থেকে বের হয়েছে এবং ১০টি প্রবেশ করেছে।
প্রতিদিনের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৪টি জাহাজ।
যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি vessel transit করত।
হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট crude oil ও LNG সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়।
অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে এর প্রভাব দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারে।
সৌদি পাইপলাইনেও আঘাত
হরমুজের বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের East-West pipeline গুরুত্বপূর্ণ।
এটি পারস্য উপসাগর এড়িয়ে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের Red Sea terminal-এর দিকে তেল পরিবহনের সুযোগ দেয়।
কিন্তু ইরান-সমর্থিত হুথিদের ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে।
ফলে জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প পথের ওপরও এখন চাপ তৈরি হয়েছে।
তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
The Guardian-এর বাজার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার Brent crude ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম একাধিকবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
এবার নতুন উদ্বেগ হলো—যদি হরমুজের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিকল্প export route-ও দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে।
হরমুজ নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগও থমকে গেছে
হরমুজে নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য ওমান একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল।
কিন্তু আঞ্চলিক মতবিরোধের কারণে সেই বৈঠক স্থগিত হয়েছে।
এর ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
হুথিদের নতুন অবস্থান
ইয়েমেনের হুথি বাহিনী Red Sea উপকূলের বেশ কিছু কৌশলগত অবস্থান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে।
Bab el-Mandeb-এর কাছাকাছি অবস্থান তাদের বৈশ্বিক shipping route-এর ওপর চাপ তৈরির ক্ষমতা বাড়িয়েছে।
Reuters-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর ফলে ইরান ও তার মিত্রদের আঞ্চলিক leverage আরও বাড়তে পারে।
শুধু তেল নয়, LNG নিয়েও ভয়
হরমুজ সংকটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো LNG।
এশিয়ার অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের LNG-এর ওপর নির্ভরশীল।
জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের জন্য গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
ইউরোপও জ্বালানি বাজারের মাধ্যমে এর প্রভাব অনুভব করতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় ধাক্কা
তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে।
এর সঙ্গে বিমানভাড়া, শিল্প উৎপাদন, পণ্য পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও বাড়তে পারে।
অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংকট নয়—এটি বৈশ্বিক inflation-এর নতুন উৎস হয়ে উঠছে।
সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কতদিন কম থাকবে এবং সৌদি পাইপলাইন কত দ্রুত পুনরায় চালু করা যাবে—এই দুই প্রশ্নের উত্তরই আগামী কয়েক দিনে তেলের বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
যদি কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয় এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি-চালিত মূল্যস্ফীতির দ্বিতীয় ঢেউ দেখা দিতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাই তেলের দাম নয়।
আসল উদ্বেগ—বিশ্ববাজারে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ কতদিন স্বাভাবিক থাকবে।
তথ্যসূত্র: Reuters, The Guardian, AP, Al Jazeera।




