Homeটুডে ওয়ার্ল্ডBRICS-এর নতুন দিল্লি সম্মেলনে ঐক্যের বদলে ফুটে উঠল বিভাজন

BRICS-এর নতুন দিল্লি সম্মেলনে ঐক্যের বদলে ফুটে উঠল বিভাজন

ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেন প্রশ্নে শক্ত অবস্থান নিতে পারেনি ১১ দেশের জোট; বাণিজ্য, AI ও Global South সহযোগিতায় জোর

নয়াদিল্লি | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম BRICS সম্মেলন শেষ হয়েছে। সম্মেলনে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও Global South-এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হলেও ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেনের মতো বড় আন্তর্জাতিক সংকটে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

১১ সদস্যের এই জোট এখন শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম নয়; বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পশ্চিমা প্রভাবের বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।

BRICS এখন আগের চেয়ে বড়

BRICS-এর পুরোনো সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও কয়েকটি দেশ যুক্ত হয়েছে।

ফলে জোটটি এখন বিশ্বের বিশাল জনগোষ্ঠী ও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক শক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে।

তবে সদস্য সংখ্যা বাড়লেও রাজনৈতিক অবস্থান সব বিষয়ে এক নয়।

ইরান যুদ্ধেই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ ছিল এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে কঠিন ভূরাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর একটি।

কিন্তু BRICS সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত নিয়ে একক কঠোর অবস্থান নিতে পারেনি।

Al Jazeera-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে জোটের ভাষা সদস্যদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে প্রকাশ করেছে।

ভারতের ভারসাম্যের রাজনীতি

ভারত একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান এবং Global South-এর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

নয়াদিল্লির জন্য BRICS তাই শুধু পশ্চিমবিরোধী জোট নয়।

বরং ভারত এটিকে বহুমুখী কূটনীতির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

এই কারণেই রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গেও ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

চীনের অর্থনৈতিক বার্তা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং BRICS-এর অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর জোর দিয়েছেন।

AI, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে চীনের প্রস্তাবগুলো Global South-এর মধ্যে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যকে সামনে এনেছে।

চীন BRICS-কে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিকল্প শক্তি হিসেবে আরও কার্যকর করতে চায়।

কিন্তু ইউক্রেনেও মতভেদ

রাশিয়া BRICS-এর অন্যতম প্রধান সদস্য।

অন্যদিকে ভারতসহ কয়েকটি সদস্য রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখলেও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি মস্কোর অবস্থান গ্রহণ করেনি।

ফলে ইউক্রেন ইস্যুতেও BRICS-এর অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা কঠিন হয়েছে।

অর্থনীতিতে কী চায় BRICS

জোটটির আলোচনায় ছিল—

  • স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য
  • আন্তঃদেশীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা
  • AI সহযোগিতা
  • উন্নয়ন অর্থায়ন
  • Global South-এর জন্য বৃহত্তর প্রতিনিধিত্ব
  • আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সংস্কার

বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্য কমানো নিয়ে সদস্যদের আগ্রহ থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এখনো জটিল।

BRICS-এর সামনে মূল সমস্যা

একদিকে সদস্য দেশগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে চায়।

অন্যদিকে সদস্যদের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী।

চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে প্রত্যেক দেশের আলাদা সম্পর্ক—সব মিলিয়ে BRICS-এর ঐক্য ধরে রাখা সহজ নয়।

তবু কেন সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ

BRICS-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো কোনো একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়।

বরং এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে পশ্চিমা জোটের বাইরে থাকা বড় অর্থনীতি ও উদীয়মান শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থ নিয়ে একসঙ্গে আলোচনা করতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতি যত বেশি বহুমেরু হচ্ছে, BRICS-এর গুরুত্বও তত বাড়তে পারে।

সামনে পরীক্ষা

BRICS এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সদস্য বাড়ানো সহজ, কিন্তু অভিন্ন নীতি তৈরি করা কঠিন।

নয়াদিল্লির সম্মেলন দেখিয়েছে—জোটটির অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বড়, কিন্তু ভূরাজনৈতিক ঐক্য এখনো সীমিত।

তথ্যসূত্র: Al Jazeera, Reuters, AP, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, Xinhua।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments