Homeটুডে ওয়ার্ল্ডরুশ হামলা, দুর্নীতি সংকট—একসঙ্গে দুই চাপের মুখে জেলেনস্কি

রুশ হামলা, দুর্নীতি সংকট—একসঙ্গে দুই চাপের মুখে জেলেনস্কি

প্রসিকিউটর জেনারেলের পদত্যাগ চাইছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট; একই সময়ে সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় নতুন উত্তেজনা

কিয়েভ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের মধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে পড়েছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দ্রুত প্রসিকিউটর জেনারেল রুসলান ক্রাভচেঙ্কোর পদত্যাগ অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এর মধ্যেই ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তের কাছাকাছি একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর রুশ ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো নিয়েও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রসিকিউটর জেনারেল কেন সরে দাঁড়াচ্ছেন

ক্রাভচেঙ্কোর কার্যালয়ের এক অধস্তন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে fraud scheme পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

ক্রাভচেঙ্কো নিজে অভিযুক্ত হননি।

তবু তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ বাড়তে থাকায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

জেলেনস্কি এখন দ্রুত সেই পদত্যাগ অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারের ভেতরেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইউক্রেনের National Anti-Corruption Bureau—NABU এবং Specialized Anti-Corruption Prosecutor’s Office—SAPO-এর সঙ্গে প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়ের সম্পর্কও উত্তপ্ত হয়েছে।

ক্রাভচেঙ্কো NABU প্রধান সেমেন ক্রিভোনোসের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

NABU ও SAPO এসব অভিযোগকে নিজেদের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুদ্ধের সময় দুর্নীতি কেন বড় রাজনৈতিক সমস্যা

ইউক্রেন এখনো পশ্চিমা সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

দেশটি একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তাই দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়।

এটি ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক আস্থার সঙ্গেও যুক্ত।

সীমান্তের কাছে রুশ হামলা

রোববার ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনকে লক্ষ্য করে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে বলে ইউক্রেন ও ফ্রান্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এই হামলাকে ইউরোপীয়দের ভয় দেখানো এবং বিভক্ত করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ঘটনাটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ এলাকাটি NATO সদস্য পোল্যান্ডের সীমান্তের খুব কাছে।

কূটনীতির পাশাপাশি যুদ্ধও চলছে

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রতিনিধিরা ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু একই সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এর ফলে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামরিক বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন আহ্বান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার oil refinery-তে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর যুক্তি, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বৈশ্বিক diesel supply-এ চাপ বাড়াচ্ছে।

রাশিয়া এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে।

কিয়েভ অবশ্য রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে যুদ্ধের অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখে।

ইউক্রেনের সামনে তিনটি চাপ

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে একই সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে—

যুদ্ধের সামরিক চাপ, আন্তর্জাতিক সহায়তা ধরে রাখার চাপ, এবং অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবিরোধী বিশ্বাসযোগ্যতার চাপ।

তিনটির যেকোনো একটিতে বড় সংকট তৈরি হলে অন্য দুই ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

এখন কী গুরুত্বপূর্ণ

পার্লামেন্ট প্রসিকিউটর জেনারেলের পদত্যাগ অনুমোদন করে কি না এবং পরবর্তী নিয়োগ কতটা স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য হয়—সেটি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অন্যদিকে সীমান্তের কাছে রুশ হামলার ঘটনা যুদ্ধের ভৌগোলিক ঝুঁকিও আবার সামনে এনেছে।

অর্থাৎ কিয়েভের জন্য যুদ্ধ শুধু সামনের সারিতে নয়।

সরকারের ভেতরের আস্থা ও আন্তর্জাতিক সমর্থনও এখন যুদ্ধের অংশ।

তথ্যসূত্র: Reuters, AP, European officials।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments