Homeটুডে টেকএবার ঘরে বসেই কোম্পানি খোলার পথ, কয়েক ঘণ্টায় নিবন্ধনের লক্ষ্য সরকারের

এবার ঘরে বসেই কোম্পানি খোলার পথ, কয়েক ঘণ্টায় নিবন্ধনের লক্ষ্য সরকারের

নতুন eBRS ব্যবস্থায় নাম ছাড়পত্র থেকে নিবন্ধন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে আনার উদ্যোগ; NID, e-TIN ও মোবাইল তথ্য যাচাই হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে

ঢাকা | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে নতুন কোম্পানি খোলার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা কমিয়ে নাম ছাড়পত্র থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Registrar of Joint Stock Companies and Firms বা RJSC নতুন একটি Electronic Business Registration System বা eBRS তৈরি করছে। লক্ষ্য হলো, আবেদনকারীর তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে একটি নতুন কোম্পানির নিবন্ধন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করা।

অফিসে যাওয়ার ঝামেলা কমবে

কোম্পানি নিবন্ধনের বিভিন্ন ধাপে উদ্যোক্তাদের সরকারি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। নতুন eBRS সেই প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়েছে।

অর্থাৎ নাম ছাড়পত্র, আবেদন, তথ্য যাচাই, অনুমোদন এবং নিবন্ধনের মতো ধাপগুলো একই অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে উদ্যোক্তার সময় ও যাতায়াতের খরচ কমবে। পাশাপাশি সরকারি সেবা দেওয়ার সময়ও কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

NID, e-TIN ও মোবাইল তথ্য হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো বিভিন্ন সরকারি database-এর সঙ্গে এর সংযোগ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, উদ্যোক্তার জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID, e-TIN এবং মোবাইল SIM-এর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের NID ও ভোটার তথ্য, BTRC-এর মোবাইল তথ্য এবং সরকারি data-centre infrastructure-এর সঙ্গে eBRS-এর সংযোগ তৈরির কাজ চলছে।

এর ফলে একজন উদ্যোক্তাকে একই তথ্য বারবার আলাদা দপ্তরে গিয়ে যাচাই করানোর প্রয়োজন কমতে পারে।

সরকারি সিস্টেমগুলো পরস্পরের সঙ্গে কথা বলবে

প্রযুক্তির ভাষায় এই ব্যবস্থাকে বলা হয় interoperability।

সহজ ভাষায়, একটি সরকারি database-এ থাকা তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য একটি সরকারি system যাচাই করতে পারবে।

একজন উদ্যোক্তা অনলাইনে কোম্পানি নিবন্ধনের আবেদন করলে তাঁর NID বা মোবাইল নম্বর নিয়ে system নিজেই সংশ্লিষ্ট database থেকে তথ্য মিলিয়ে দেখতে পারবে।

এতে manual verification-এর ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে।

MOA ও AOA তৈরিও সহজ হবে

কোম্পানি নিবন্ধনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি নথি হলো Memorandum of Association বা MOA এবং Articles of Association বা AOA।

নতুন ব্যবস্থায় standard, customised এবং pre-approved model ব্যবহারের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাধারণ ব্যবসার জন্য উদ্যোক্তা প্রস্তুত কাঠামো ব্যবহার করতে পারবেন। আবার বিশেষ ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী customized কাঠামো বেছে নেওয়া যাবে।

এতে নথি তৈরির জটিলতা কমার পাশাপাশি যাচাইয়ের সময়ও কমতে পারে।

প্রযুক্তিগত নিরাপত্তায় যুক্ত BUET

পুরো কোম্পানি নিবন্ধন ব্যবস্থা অনলাইনে চলে গেলে এতে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকবে। তাই দ্রুততার পাশাপাশি cybersecurity-ও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা BUET-এর Computer Science and Engineering বিভাগকে প্রযুক্তিগত পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

BUET-এর বিশেষজ্ঞরা software development-এর বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং system security, reliability ও quality নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

নিবন্ধন ব্যবস্থার User Acceptance Test বা UAT-ও সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বড় পরিবর্তনের লক্ষ্য

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, eBRS-এর final transformation ও software handover ১৫ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে পুরো automation চালুর আগ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত human verification ব্যবস্থাও রাখা হবে।

অর্থাৎ প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয় হলেও শুরুতে প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষের যাচাই পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না।

একজন উদ্যোক্তার জন্য এর অর্থ কী

একজন নতুন উদ্যোক্তা ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রথম বাধা অনেক সময় পণ্য বা বাজার নয়—প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

কোম্পানির নামের অনুমোদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিভিন্ন তথ্য যাচাই এবং নিবন্ধন—এই ধাপগুলো যত সহজ হবে, ব্যবসা শুরু করার সময়ও তত কমবে।

eBRS সফল হলে একজন উদ্যোক্তা ঘরে বসেই এই কাজগুলোর বড় অংশ সম্পন্ন করতে পারবেন।

তথ্য সঠিক থাকলে কয়েক ঘণ্টায় নিবন্ধন শেষ করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে সেটি বাংলাদেশের ব্যবসা শুরুর সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

ছোট ব্যবসা ও startup-এর জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ

একটি বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় একজন নতুন উদ্যোক্তার কাছে সময় ও প্রশাসনিক খরচ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাই company registration-এর friction কমানো startup ecosystem-এর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ব্যবসা শুরু সহজ হলে নতুন কোম্পানি তৈরি হবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

ডিজিটাল হলেই নিরাপদ—এমন নয়

eBRS-এর সঙ্গে অনেক সরকারি database যুক্ত হওয়ার ফলে সুবিধা যেমন বাড়বে, তেমনি security risk-ও বাড়বে।

NID, TIN ও মোবাইল সংক্রান্ত তথ্যের মতো সংবেদনশীল data ব্যবহৃত হবে। তাই কোন সংস্থা কোন তথ্য দেখতে পারবে, তথ্যের access কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, audit trail থাকবে কি না এবং data breach হলে দ্রুত কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর প্রয়োজন।

একইভাবে database-এর তথ্যের মধ্যে ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে উদ্যোক্তা যেন দ্রুত তা সংশোধনের সুযোগ পান, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে আরও বড় ডিজিটাল ব্যবসা ব্যবস্থা

eBRS সফল হলে এটি শুধু কোম্পানি নিবন্ধনের সেবা হয়ে থাকবে না।

ভবিষ্যতে tax registration, licence, banking, payment এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক অনুমোদনের সঙ্গে একই ধরনের interoperable digital workflow তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তাহলে একজন উদ্যোক্তার জন্য ব্যবসা শুরু করা সত্যিকারের end-to-end digital process হয়ে উঠবে।

শেষ কথা

কাগজের ফাইল, অফিসে যাতায়াত এবং দীর্ঘ অপেক্ষার জায়গায় যদি একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য অনলাইন ব্যবস্থা আসে, তাহলে বাংলাদেশের ব্যবসা শুরু করার পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

eBRS-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে তখনই, যখন একজন উদ্যোক্তা সত্যিই বলতে পারবেন—

“কোম্পানি খুলতে আমাকে সরকারি অফিসে ঘুরতে হয়নি, অনলাইনেই পুরো কাজ শেষ করেছি।”

সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারলে eBRS শুধু একটি সফটওয়্যার নয়; বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিবর্তনের সূচনা হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, RJSC এবং eBRS আধুনিকায়নসংক্রান্ত সরকারি তথ্য।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments