Homeনাগরিক দর্পণ২৯ বছর পরও FBI-এর ওয়ান্টেড তালিকায় বাংলাদেশি চিকিৎসক

২৯ বছর পরও FBI-এর ওয়ান্টেড তালিকায় বাংলাদেশি চিকিৎসক

ফিলাডেলফিয়ায় নারী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম: ১৯৯৭ সালেই ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ২০১০ থেকেই FBI-এর ওয়ান্টেড রেকর্ডে—তাহলে এত বছর পর এখন কেন আবার সামনে এলেন?

টুডে টিভি বিডি | ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন

প্রায় তিন দশক আগের একটি অভিযোগ। একজন চিকিৎসক। হাসপাতালের শয্যায় অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অবস্থায় থাকা এক নারী রোগী। অভিযোগ—ওষুধ দিয়ে তাঁকে ঝিমিয়ে ফেলার পর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ। এরপর মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, দেশত্যাগ এবং ২৯ বছর ধরে পলাতক জীবন।

নাম জাহিদুল ইসলাম

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—FBI এখনো তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য জনসাধারণের সহযোগিতা চাইছে। FBI-এর বর্তমান Wanted পেজে তাঁকে ফিলাডেলফিয়ায় ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর সংঘটিত একটি অভিযোগিত যৌন নিপীড়ন মামলায় খোঁজা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে Eastern District of Pennsylvania-তে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।

তবে এই গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রশ্ন হয়তো অভিযোগটি নয়।

প্রশ্ন হলো—

ঘটনাটি যখন ১৯৯৬ সালের, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যখন ১৯৯৭ সালের, তাহলে ২০২৬ সালে এসে FBI-এর এই সতর্কবার্তা নিয়ে এত আলোচনা কেন?

আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—এটি আসলে নতুন সতর্কবার্তা নয়।

FBI-এর নিজস্ব Wanted Collection-এ জাহিদুল ইসলামের নামের পাশে ৩১ আগস্ট ২০১০ তারিখে একটি পুরোনো রেকর্ড রয়েছে।

অর্থাৎ, FBI তাঁকে বহু বছর ধরেই খুঁজছে। ২০০৮ সালেও ABC News-এর একটি ‘Fugitive Watch’ প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছিল।

তাহলে এখন কেন আবার তাঁর নাম সামনে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ফিরে যেতে হবে প্রায় তিন দশক পেছনে।


১৯৯৬: হাসপাতালের কক্ষে যে অভিযোগ

FBI-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর ফিলাডেলফিয়ার একটি বড় হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন জাহিদুল ইসলাম।

ওই দিন অস্ত্রোপচার থেকে সেরে ওঠা এক নারী রোগী হাসপাতালের কক্ষে ছিলেন।

তদন্তকারীদের দাবি, জাহিদুল ইসলাম রোগীকে এমন একটি ওষুধ দেন যাতে তিনি ঝিমিয়ে পড়েন। এরপর তাঁর ওপর জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন চালানো হয়।

FBI-এর বর্তমান Wanted পেজে ঘটনাটিকে “alleged sexual assault” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ; ওয়ান্টেড থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন মানুষকে “ধর্ষক” হিসেবে চূড়ান্তভাবে বর্ণনা করার আগে বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তাই এই প্রতিবেদনে জাহিদুল ইসলামকে অভিযুক্ত/ওয়ান্টেড ব্যক্তি হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।


১৯৯৭: মামলা থেকে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

FBI বলছে, ঘটনার পর জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এরপর ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে Eastern District of Pennsylvania তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। FBI-এর Wanted নথিতে তাঁর মামলাটিকে “Unlawful Flight to Avoid Prosecution” এবং “Involuntary Deviate Sexual Intercourse”-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি কেবল হাসপাতাল-ভিত্তিক একটি অভিযোগে আটকে থাকেনি; অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার এড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও যুক্ত হয়েছে।


তারপর কোথায় গেলেন জাহিদুল ইসলাম?

এখানেই রহস্য ঘনীভূত।

FBI-এর বর্তমান Wanted পেজে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে, তাঁর নিউইয়র্ক স্টেট ও মন্ট্রিয়েল, কানাডায় যোগাযোগ রয়েছে। FBI আরও বলছে, তিনি তাঁর স্ত্রী—যিনিও একজন চিকিৎসক—কে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতে পারেন।

কিন্তু FBI প্রকাশ্যে তাঁর বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।

এমনকি বর্তমান Wanted পেজেও তাঁর সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থান বা ১৯৯৭ সালের পর তিনি কোথায় ছিলেন—তার বিস্তারিত টাইমলাইন প্রকাশ করা হয়নি।

এই জায়গাটিই মামলার সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত অংশ।


তাহলে ২৯ বছরেও গ্রেপ্তার হলেন না কেন?

একটি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা এবং একজন ব্যক্তিকে বাস্তবে গ্রেপ্তার করা—দুইটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

যদি কোনো অভিযুক্ত দেশ ছেড়ে চলে যান, বিদেশে নতুন পরিচয়ে বসবাস করেন, একাধিক দেশে যাতায়াত করেন এবং তাঁর অবস্থান নিশ্চিত না হয়, তাহলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার জন্য তাঁকে শনাক্ত ও আটক করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।

জাহিদুল ইসলামের ক্ষেত্রে FBI-এর নিজস্ব তথ্যই বলছে, নিউইয়র্ক ও মন্ট্রিয়েলের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র ছিল।

আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ—যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল পরোয়ানা থাকলেই পৃথিবীর যেকোনো দেশে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। প্রত্যর্পণ, স্থানীয় আইন, কূটনৈতিক সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয় রয়েছে।

তবে এই মামলার ক্ষেত্রে কোন কোন দেশে কী ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান, প্রত্যর্পণ-চেষ্টা বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা হয়েছে—সেটির বিস্তারিত ইতিহাস FBI-এর বর্তমান প্রকাশ্য নথিতে নেই।

এটাই অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা।


২০০৮-এ প্রথম প্রকাশ!

“এত বছর পর FBI এখন সতর্কবার্তা দিল”—এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

২০০৮ সালের মার্চেই ABC News-এর Fugitive Watch-এ জাহিদুল ইসলামের নাম ও ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। তখনও তাঁকে ফিলাডেলফিয়ায় ১৯৯৬ সালের নারী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওয়ান্টেড হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সেই রিপোর্টে তাঁর নিউইয়র্ক ও মন্ট্রিয়েল-সংযোগ এবং স্ত্রীও চিকিৎসক—এই তথ্যগুলো ছিল।

এরও পরে FBI-এর Wanted Collection-এ ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

অর্থাৎ—

১৯৯৬ → ঘটনা
১৯৯৭ → ফেডারেল পরোয়ানা
২০০৮ → জাতীয় মার্কিন সংবাদমাধ্যমে Fugitive Watch
২০১০ → FBI Wanted Collection-এ রেকর্ড
২০২৬ → আবারও FBI-এর Wanted পেজ নতুন করে আলোচনায়

তাহলে ২০২৬-এর ঘটনাটি সম্ভবত নতুন করে মামলা খোলার ঘোষণা নয়।

বরং পুরোনো একজন পলাতক অভিযুক্তকে নিয়ে FBI-এর বিদ্যমান জনসাধারণের সতর্কবার্তা আবার দৃশ্যমান হয়েছে।


২০২৬ সালে কেন আবার আলোচনায়?

এখানে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে।

প্রথম কারণ: ডিজিটাল Wanted ডাটাবেস এখন আরও সহজে দৃশ্যমান

আজকের FBI ওয়েবসাইটে একজন পলাতকের Wanted পেজ সরাসরি সার্চ করে পাওয়া যায়। ফলে বহু পুরোনো মামলাও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদে উঠে আসে।

দ্বিতীয় কারণ: FBI পেজের সাম্প্রতিক ডিজিটাল আপডেট

FBI-এর বর্তমান Zahidul Islam PDF/Wanted material-এর সংস্করণটি সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে বলে সার্চ-ইনডেক্সে দেখা যাচ্ছে।

এটি নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। বরং পুরোনো মামলার বর্তমান Wanted profile-এর ডিজিটাল আপডেট হওয়া সম্ভব।

তৃতীয় কারণ: ২০২৬ সালে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পুনরুদ্ধার করা রিপোর্ট

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে FOX 29 Philadelphia আবার বিষয়টি তুলে ধরে—শিরোনামেই বলা হয়, প্রায় ৩০ বছর ধরে পলাতক একজন চিকিৎসককে FBI খুঁজছে

অর্থাৎ বর্তমান আলোচনাটি সম্ভবত একটি renewed public appeal—নতুন অপরাধের তদন্ত নয়।


FBI কি নতুন কোনো প্রমাণ পেয়েছে?

বর্তমান প্রকাশ্য FBI নথি থেকে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না যে ২০২৬ সালে জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে বা নতুন করে কোনো চার্জ আনা হয়েছে।

বরং FBI-এর বর্তমান পেজে ১৯৯৬ সালের একই অভিযোগ এবং ১৯৯৭ সালের একই ফেডারেল পরোয়ানার কথা বলা হয়েছে।

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ পুরোনো মামলাটিই এখনো সক্রিয় এবং FBI এখনো তাঁকে খুঁজছে।


কেন এত দীর্ঘ সময়েও মামলা শেষ হয়নি?

কারণ তিনি গ্রেপ্তার হননি।

একটি ফেডারেল ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের সামনে হাজির না হলে বিচার এগিয়ে নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই কঠিন।

FBI-এর বর্তমান তালিকায় তাঁকে এখনো “wanted” হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

আর FBI-এর সতর্কবার্তার সবচেয়ে কঠিন শব্দ—

“SHOULD BE CONSIDERED ARMED AND DANGEROUS.”

এখানেও সতর্কতা প্রয়োজন। এই শব্দের অর্থ এই নয় যে তিনি কোনো নতুন সশস্ত্র অপরাধ করেছেন। এটি FBI-এর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি সতর্কতামূলক শ্রেণিবিন্যাস।


একজন চিকিৎসক কীভাবে তিন দশক ধরে অধরা থাকেন?

মামলাটির সবচেয়ে মানবিক এবং নৈতিক প্রশ্নটি এখানেই।

একজন হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ।

অভিযোগটি এমন এক রোগীর বিরুদ্ধে, যিনি তখন চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণভাবে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

অভিযোগের সত্যতা বিচারিকভাবে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু যদি তা সত্য হয়, তাহলে এটি ছিল ক্ষমতার সম্পর্কের চরম অপব্যবহারের অভিযোগ

আর একজন চিকিৎসক পলাতক থাকলে প্রশ্ন ওঠে—

কোনো হাসপাতাল কি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছিল?

তাঁর মেডিকেল লাইসেন্সের কী হয়েছিল?

তিনি পরবর্তী সময়ে কোথায় চিকিৎসা করেছেন?

তিনি কি অন্য কোনো নামে কাজ করেছেন?

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তিনি চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন কি না?

তিনি কি বাংলাদেশ, কানাডা বা অন্য কোনো দেশে চিকিৎসা করেছেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর FBI-এর বর্তমান পেজে নেই।


বাংলাদেশের জন্যও কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ?

FBI-এর নথিতে তাঁর জন্মস্থান Bangladesh এবং nationality Bangladeshi বলা হয়েছে। পেশা হিসেবে medical doctor উল্লেখ রয়েছে।

তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে—তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে আছেন কি না।

কিন্তু এখানে আবারও সতর্কতা জরুরি:

FBI তাঁকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেনি।

তারা শুধু জানিয়েছে, তাঁর পরিচিত যোগসূত্র নিউইয়র্ক ও মন্ট্রিয়েলের সঙ্গে রয়েছে এবং তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতে পারেন।

সুতরাং তাঁকে বাংলাদেশে অবস্থানরত বলা এখনই তথ্যগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।


তিন দশকের মামলায় সবচেয়ে বড় তিনটি অজানা তথ্য

প্রকাশ্য নথি ঘেঁটে অন্তত তিনটি বড় প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

১. ১৯৯৭-এর পর তিনি কোথায় ছিলেন?

FBI তাঁর বর্তমান অবস্থান জানে না।

২. তাঁর বিরুদ্ধে কী কী আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান হয়েছিল?

কানাডা বা অন্য দেশে কোনো আনুষ্ঠানিক extradition request বা সহযোগিতার নথি প্রকাশ্যে নেই।

৩. তিনি কি চিকিৎসা পেশায় আবার যুক্ত ছিলেন?

FBI তাঁর পেশা “Medical Doctor” হিসেবে উল্লেখ করেছে, কিন্তু ১৯৯৭-এর পর তাঁর পেশাগত গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

এই তিন প্রশ্নই ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের কেন্দ্র হতে পারে।


দাবি বনাম নিশ্চিত তথ্য

বিষয়যা নিশ্চিত
১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর ঘটনাFBI-এর Wanted নথিতে উল্লেখ আছে
অভিযোগের ধরননারী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
ফেডারেল পরোয়ানা১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে জারি
নিউইয়র্ক ও মন্ট্রিয়েল-যোগFBI-এর বর্তমান নোটিশে উল্লেখ
স্ত্রীও চিকিৎসকFBI-এর নোটিশে উল্লেখ
FBI তাঁকে এখনো খুঁজছেবর্তমান Philadelphia Wanted তালিকায় নাম রয়েছে
এটি নতুন ২০২৬-এর পরোয়ানাএমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি
FBI প্রথমবার ২০২৬ সালে সতর্ক করেছেসঠিক নয়; ২০০৮ ও ২০১০ সালেও প্রকাশ্য রেকর্ড রয়েছে
বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থাননিশ্চিত নয়

শেষ কথা: ‘দেরিতে সতর্কবার্তা’ নয়, পুরোনো পলাতককে নতুন করে সামনে আনা

জাহিদুল ইসলামের গল্পে সবচেয়ে বড় ভুল হবে এটিকে “২৯ বছর পর FBI-এর নতুন অভিযান” হিসেবে উপস্থাপন করা।

বাস্তবতা হলো, FBI তাঁকে বহু বছর ধরেই খুঁজছে।

১৯৯৭ সালে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

২০০৮ সালে ABC News তাঁকে ‘Fugitive Watch’-এ তুলে ধরে।

২০১০ সালেই FBI Wanted Collection-এ তাঁর রেকর্ডের তারিখ পাওয়া যায়।

আর ২০২৬ সালে আবারও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাঁর নাম সামনে এনেছে।

সুতরাং সাম্প্রতিক “সতর্কবার্তা”কে সবচেয়ে যুক্তিযুক্তভাবে দেখা যায় পুরোনো সক্রিয় Wanted case-এর renewed public appeal ও digital resurfacing হিসেবে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মামলাটির গুরুত্ব কমেছে।

বরং উল্টো।

প্রায় ৩০ বছর ধরে একজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার হননি—এটি নিজেই একটি বড় প্রশ্ন।

আর যদি তিনি এখনো কোথাও বসবাস করে থাকেন, চিকিৎসা পেশায় যুক্ত থাকেন, কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে সামাজিক জীবন কাটান—তাহলে সেই প্রশ্ন আরও গুরুতর।

একজন নারী রোগীর ওপর ১৯৯৬ সালে সংঘটিত অভিযোগিত হামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি।

একটি ফেডারেল পরোয়ানা এখনো সক্রিয়।

আর FBI এখনো বলছে—

তাঁকে দেখা গেলে অথবা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে জানাতে।

এই গল্পের শেষ অধ্যায় তাই এখনো লেখা হয়নি।

জাহিদুল ইসলাম কোথায়—এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো প্রায় তিন দশকের পুরোনো এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী অধ্যায়।

টুডে টিভি বিডি | আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ডেস্ক

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments