ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের আয়োজনে ২৮ ও ২৯ আগস্ট কুমিল্লা কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সে বসছে ‘১ম কুমিল্লা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’; থাকছে পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যময় আয়োজন
কুমিল্লা | শোবিজ টুডে ডেস্ক
কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব। ‘১ম কুমিল্লা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’ শিরোনামের এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ ও ২৯ আগস্ট কুমিল্লার কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই দিনে মোট ছয়টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তিনটি করে সিনেমা দেখানো হবে। এর ফলে কুমিল্লার দর্শকরা একই ভেন্যুতে একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পাবেন।
চলচ্চিত্র উৎসবটির অন্যতম আকর্ষণ হলো টিকিটের সহজলভ্যতা। সাধারণ দর্শকদের জন্য প্রতিদিনের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। একটি টিকিটেই ওই দিনের প্রদর্শিত তিনটি চলচ্চিত্র দেখা যাবে। টিকিট পাওয়া যাবে অনলাইন এবং উৎসবের ভেন্যু—দুই মাধ্যমেই।
কুমিল্লার দর্শকদের জন্য বড় পর্দায় বৈচিত্র্যময় আয়োজন
দেশের রাজধানীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র উৎসবের বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ এখন চলচ্চিত্র সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃত করছে। সেই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লায় এই উৎসবের আয়োজন স্থানীয় দর্শকদের জন্য নতুন ধরনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
বিশেষ করে বাণিজ্যিক প্রদর্শনের পাশাপাশি উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের অন্তর্ভুক্তি তরুণ নির্মাতাদের কাজের সঙ্গে দর্শকদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
প্রথম দিনেই তিন ভিন্নধারার চলচ্চিত্র
উৎসবের প্রথম দিন ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হবে আকাশ হক পরিচালিত ‘ইউনিভার্সিটি অফ চানখাঁরপুল’।
এরপর সন্ধ্যা ৬টায় দেখানো হবে জীবন শাহাদাৎ পরিচালিত ‘নেমপ্লেট’। দিনের শেষ প্রদর্শনী হিসেবে সন্ধ্যা ৭টায় থাকছে এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘গলুই’।
একই দিনে তিনটি আলাদা চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী উৎসবটিকে বৈচিত্র্যময় করে তুলবে। ফলে দর্শকেরা এক টিকিটেই ভিন্ন নির্মাতার ভিন্ন চলচ্চিত্রভাষার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।
দ্বিতীয় দিনে থাকছে আলোচিত কয়েকটি সিনেমা
উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘লাল শাড়ি’।
এরপর বিকেল সাড়ে ৬টায় দেখানো হবে সুপিন বর্মন পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এ লেটার অব পোস্টমাস্টার’।
উৎসবের শেষ প্রদর্শনী হিসেবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দর্শকের সামনে আসবে খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাতাও’।
দ্বিতীয় দিনের সূচিতে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র রাখার ফলে উৎসবের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।
ছয় সিনেমার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য
দুই দিনের উৎসবের ছয়টি চলচ্চিত্রকে শুধু বিনোদনের উপকরণ হিসেবে নয়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরার একটি জানালা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
বাণিজ্যিকভাবে পরিচিত চলচ্চিত্রের পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজকে একই উৎসবের অংশ করে নেওয়া হয়েছে। ফলে দর্শকের কাছে চলচ্চিত্রের ভিন্ন ভিন্ন ভাষা, নির্মাণরীতি এবং গল্প বলার পদ্ধতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ ধরনের আয়োজন চলচ্চিত্রকে শুধু প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক বিনোদন হিসেবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক আলোচনার অংশ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
টিকিটের দাম মাত্র ১০০ টাকা
চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনকে সাধারণ দর্শকের নাগালের মধ্যে রাখতে টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই টিকিটে নির্দিষ্ট দিনে প্রদর্শিত তিনটি চলচ্চিত্রই দেখা যাবে।
অর্থাৎ একটি টিকিটেই দর্শক পরপর তিনটি সিনেমা দেখার সুযোগ পাবেন। চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং শিক্ষার্থী দর্শকদের জন্য এ ধরনের মূল্য কাঠামো উৎসবে অংশগ্রহণ আরও সহজ করতে পারে।
টিকিট অনলাইন ও ভেন্যু—দুই জায়গা থেকেই সংগ্রহ করা যাবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
কারা আয়োজন করছে
কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সের নিবেদনে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করছে। উৎসবের সহযোগী সংগঠন হিসেবে রয়েছে কুমিল্লা ফিল্ম ক্লাব, কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কল্যাণ সোসাইটি এবং বেঙ্গল ফিল্ম সোসাইটি।
একাধিক চলচ্চিত্র সংগঠনের অংশগ্রহণের ফলে উৎসবটি শুধু একটি স্থানীয় প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সংগঠকদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
কুমিল্লার চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে নতুন সম্ভাবনা
কুমিল্লা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর। কিন্তু চলচ্চিত্র উৎসব, বিকল্প চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং নিয়মিত সিনেমা-আলোচনার আয়োজনের দিক থেকে রাজধানীর তুলনায় জেলা শহরগুলো এখনও পিছিয়ে।
এই বাস্তবতায় কুমিল্লায় নিয়মিত চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্যোগ স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের নির্মাতা, চলচ্চিত্র সংগঠক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য কুমিল্লাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক গন্তব্য হিসেবেও প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শুধু প্রদর্শনী নয়, চলচ্চিত্র দেখার সংস্কৃতি তৈরিই বড় লক্ষ্য
একটি চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্ব শুধু কতগুলো সিনেমা দেখানো হলো, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে দর্শকের রুচি তৈরি, নতুন নির্মাতাকে পরিচিত করা, চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে সিনেমাকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক পরিসর গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।
কুমিল্লার এই আয়োজন সেই জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাত্র ১০০ টাকায় প্রতিদিন তিনটি চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ থাকায় উৎসবটি সাধারণ দর্শকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
দুই দিনের এই আয়োজন সফল হলে কুমিল্লায় ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা, কর্মশালা ও চলচ্চিত্রবিষয়ক সাংস্কৃতিক আয়োজনের পথ তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।
উৎসবের সময়সূচি এক নজরে
২৮ আগস্ট
- বিকেল ৩টা — ইউনিভার্সিটি অফ চানখাঁরপুল — পরিচালক: আকাশ হক
- সন্ধ্যা ৬টা — নেমপ্লেট — পরিচালক: জীবন শাহাদাৎ
- সন্ধ্যা ৭টা — গলুই — পরিচালক: এস এ হক অলিক
২৯ আগস্ট
- বিকেল ৩টা — লাল শাড়ি — পরিচালক: বন্ধন বিশ্বাস
- বিকেল সাড়ে ৬টা — এ লেটার অব পোস্টমাস্টার — পরিচালক: সুপিন বর্মন
- সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা — সাতাও — পরিচালক: খন্দকার সুমন
ভেন্যু: কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স, কুমিল্লা
টিকিট: প্রতিদিন ১০০ টাকা
এক টিকিটে: ওই দিনের তিনটি চলচ্চিত্র
টিকিট সংগ্রহ: অনলাইন ও ভেন্যু—উভয় মাধ্যমে
আয়োজক: ঢাকা ফিল্ম ক্লাব
নিবেদন: কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স
সহযোগী: কুমিল্লা ফিল্ম ক্লাব, কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব ও বেঙ্গল ফিল্ম সোসাইটি
কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই দুই দিনের চলচ্চিত্র উৎসব তাই শুধু ছয়টি সিনেমার প্রদর্শনী নয়; স্থানীয় দর্শকের সঙ্গে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নতুন ও বৈচিত্র্যময় ধারার একটি সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগও। উৎসবের পর্দা উঠলেই বোঝা যাবে, কুমিল্লার দর্শক এই নতুন চলচ্চিত্র-উদ্যোগকে কতটা আপন করে নেন।




