Homeটুডে বাংলানারায়ণগঞ্জে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

নারায়ণগঞ্জে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

মোটরসাইকেলে এসে আগুন ছুড়ে পালাল দুর্বৃত্তরা, সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তের চেষ্টা পুলিশের

TODAY TV BD | নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। ভোররাতে মোটরসাইকেলে এসে দুই ব্যক্তি দাহ্য পদার্থে আগুন জ্বালিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের দিকে ছুড়ে মেরে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় স্মৃতিস্তম্ভের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের হাজীগঞ্জ এলাকায় নির্মিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি আসে। তারা দূর থেকে একটি কাপড়ের দলায় কেরোসিন বা পেট্রলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের পাশের অংশে নিক্ষেপ করে। এতে স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে রাখা কাপড়ে আগুন ধরে যায়।

ঘটনার সময় স্মৃতিস্তম্ভের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। ফলে মূল স্থাপনাটি অক্ষত থাকে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি আগুন লাগার ভিডিও ধারণ করেন। পরে মঙ্গলবার বিকেলে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছে এবং এতে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামীম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তায় একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দায়িত্ব পালন করছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, আশপাশের সড়ক ও এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা বা নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৬ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশ কাপড় দিয়ে সাজানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন প্রথমে সেই কাপড়েই লাগে।

জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি গত বছরের ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় উদ্বোধন করা হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি দেশের প্রথম জেলা পর্যায়ের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

নিউজ সোর্স: প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, ইত্তেফাক, দেশ রূপান্তর, জাগো নিউজ, বাসস।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments