Homeশোবিজ টুডেসুরাইয়া আহসানকে স্মরণ: প্রিয় শিক্ষকের প্রয়াণের সাত বছর, স্মৃতিতে কিংবদন্তি অভিনেতা সিডনির...

সুরাইয়া আহসানকে স্মরণ: প্রিয় শিক্ষকের প্রয়াণের সাত বছর, স্মৃতিতে কিংবদন্তি অভিনেতা সিডনির জীবনসঙ্গিনী

শোবিজ টুডে ডেস্ক

বাংলাদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ সুরাইয়া আহসান। হাজারো শিক্ষার্থীর প্রিয় এই শিক্ষককে হারানোর সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

শিক্ষক হিসেবে যেমন তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ, তেমনি ব্যক্তিজীবনে ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সৈয়দ আহসান আলী সিডনির জীবনসঙ্গিনী। তাঁদের পরিবার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অভিনয়—এই তিন ক্ষেত্রেই রেখে গেছে অনন্য অবদান।

শিক্ষাজীবন থেকে শিক্ষকতার উজ্জ্বল পথচলা

১৯৩৮ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার ডায়মন্ড হারবারে জন্মগ্রহণ করেন সুরাইয়া আহসান। তাঁর বাবা এমদাদ আলী ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা সুফিয়া খাতুন ছিলেন শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা নারী।

বাবার চাকরির সুবাদে শৈশব ও কৈশোর কেটেছে কলকাতা, রাজশাহী, পাবনা ও ঢাকায়। তিনি সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স স্কুল ও হলিক্রস কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেশাগত জীবনে হলি ক্রস স্কুল, উদয়ন স্কুল ও ইডেন মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করেন। পরে ১৯৭৭ সাল থেকে সানবিমস স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য শিক্ষার্থী।

শিক্ষা ও অভিনয়ের দুই আলোকিত মানুষের সংসার

সুরাইয়া আহসানের জীবনসঙ্গী ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা সৈয়দ আহসান আলী সিডনি। দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং একই বছরে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁদের সংসারে জন্ম নেন চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম (জামি) এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা জীতু আহসান

বাংলাদেশের অভিনয়জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র সিডনি

সৈয়দ আহসান আলী সিডনি (১৯৩৮–২০০২) ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। বিশেষ করে ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে সুদর্শন ও বহুমাত্রিক অভিনয়ের জন্য তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই অভিনেতা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য চলচ্চিত্র ও নাটকে অভিনয় করেন। অভিনয়ে অনন্য অবদানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

স্মরণীয় চলচ্চিত্র ও নাটক

সিডনির উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘চোরাবালি’, ‘সূর্যকন্যা’, ‘দহন’, ‘সূর্য ওঠার আগে’, ‘মায়ামৃগ’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘স্বামী’, ‘আয়না’ এবং ‘ফুলশয্যা’

চিত্রনায়িকা কবরীর সঙ্গে ‘চোরাবালি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে। পরে ‘সূর্যকন্যা’ ছবিতে অভিনেত্রী জয়শ্রী কবিরের বিপরীতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবির জনপ্রিয় গান ‘চেনা চেনা লাগে তবু অচেনা’, যা শ্যামল মিত্রের কণ্ঠে গাওয়া, আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

টেলিভিশন নাটকেও তিনি ছিলেন সমান উজ্জ্বল। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘রাহু’, ‘নয়ন সম্মুখে তুমি নাই’, ‘আমি তুমি সে’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘জোনাকি জ্বলে’, ‘একটি সেতুর গল্প’, ‘হাজার বছর পরে’, ‘সাতজন যাত্রী’, ‘এক নক্ষত্রের নিচে’ এবং ‘খেলা বিটনগর খেলা’। এসব নাটকের কয়েকটিতে ছেলে জীতু আহসানও সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন।

কলেজজীবনে তিনি অভিনেতা বুলবুল আহমেদ, নাজমুল হুদা বাচ্চুসহ বন্ধুদের নিয়ে একটি নাট্যদলও গড়ে তুলেছিলেন।

২০০২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এই গুণী অভিনেতা।

উত্তরাধিকার হয়ে আছেন জীতু আহসান

সুরাইয়া আহসান ও সৈয়দ আহসান আলী সিডনির উত্তরসূরি হিসেবে অভিনয়জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন জীতু আহসান। টেলিভিশন নাটকের পরিচিত এই অভিনেতা বাবা-মায়ের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

অধ্যাপক সুরাইয়া আহসানের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের এই দুই গুণী ব্যক্তিত্বকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে তাঁদের শুভানুধ্যায়ীরা। একই সঙ্গে তাঁদের উত্তরাধিকার বহন করে চলা অভিনেতা জীতু আহসানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন অনেকে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments