সংসদে আখতার হোসেনের অভিযোগ—সমাবেশের আগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বক্তব্য চলাকালে বিস্ফোরণ; আইনমন্ত্রীর আশ্বাস, স্বচ্ছ তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার পথসভায় বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে স্বচ্ছতার সঙ্গে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, সাভারে দলের জুলাই পদযাত্রার পথসভায় বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁরা মঞ্চে ওঠার আগেই সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, বক্তব্য চলাকালে শ্রোতাদের মধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং সমাবেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংসদে তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকার সংবিধান দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে সমাবেশের সময় কেন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হলো এবং কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেল না—এ বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি প্রয়োজন।
তিনি আরও দাবি করেন, এনসিপি জুলাই-সংক্রান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করার পর থেকেই বিভিন্নভাবে বাধার মুখে পড়ছে। এর আগেও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ আকারে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে বক্তব্য দিয়ে বলেন, সরকার ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন,
“সংসদ সদস্য আখতার হোসেন যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছি। এর সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যতটা সম্ভব, স্বচ্ছতার সঙ্গে ততটাই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার সাভারে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার পথসভায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হন। ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিস্ফোরণের কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তদন্ত শেষ হলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



