Homeটুডে স্পোর্টস২০২৭ এশিয়া কাপ কি ফিরছে বাংলাদেশে? এসিসির পরিকল্পনায় এগিয়ে ঢাকা, প্রস্তুতি শুরু...

২০২৭ এশিয়া কাপ কি ফিরছে বাংলাদেশে? এসিসির পরিকল্পনায় এগিয়ে ঢাকা, প্রস্তুতি শুরু বিসিবির

মীরপুর–চট্টগ্রাম–সিলেটকে ঘিরে সম্ভাব্য ভেন্যু পরিকল্পনা; আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও আশাবাদী ক্রিকেট মহল

স্পোর্টস ডেস্ক | টুডে স্পোর্টস

এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজক হতে পারে বাংলাদেশ। ২০২৭ সালের এশিয়া কাপ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে সবচেয়ে সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে বিবেচনা করছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)—এমন তথ্য সামনে আসতেই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজক দেশের নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে পুরো প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে পরিকল্পনার স্তরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, এসিসি সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোর বিস্তারিত অবকাঠামোগত প্রতিবেদন চেয়েছে। অর্থাৎ, আয়োজক নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ এখন বাস্তব প্রস্তুতির পর্যায়ে।


এসিসির নজরে বাংলাদেশ, শুরু হয়েছে ভেন্যু মূল্যায়ন

ক্রিকেট–সংশ্লিষ্ট একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৮ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত এশিয়া কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এসিসি। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে—

  • 🏟️ শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর
  • 🏟️ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম
  • 🏟️ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

বিসিবির নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ জানিয়েছেন, এসিসি তিনটি ভেন্যুর নিরাপত্তা, অবকাঠামো, দর্শকসুবিধা ও আয়োজন সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। বোর্ড দ্রুতই সেই রিপোর্ট জমা দেবে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতের জন্য বগুড়াকেও ভাবা হচ্ছে। তবে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে।


১১ বছর পর আবার এশিয়া কাপ?

বাংলাদেশ সর্বশেষ এশিয়া কাপ আয়োজন করেছিল ২০১৬ সালে। সেবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণের সেই আসর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল এবং দর্শক উপস্থিতি ও আয়োজনে প্রশংসা কুড়িয়েছিল বিসিবি।

এরপর দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে আর কোনো বড় বহুজাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়নি। ফলে ২০২৭ সালের এশিয়া কাপ দেশের ক্রিকেটের জন্য নতুন মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।


কেন বাংলাদেশ এগিয়ে?

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—

  • আন্তর্জাতিক মানের তিনটি প্রস্তুত ভেন্যু।
  • ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের বিশাল উপস্থিতি নিশ্চিত করার সক্ষমতা।
  • বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পূর্ব অভিজ্ঞতা।
  • দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্প্রচার সুবিধা।
  • তুলনামূলকভাবে কম ভ্রমণ দূরত্বে একাধিক শহরে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ।

শুধু ক্রিকেট নয়, অর্থনীতিতেও বড় সুযোগ

এশিয়া কাপের মতো টুর্নামেন্ট আয়োজন শুধু ক্রিকেটীয় মর্যাদাই বাড়াবে না; এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতি, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও।

বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • হাজারো বিদেশি দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মী বাংলাদেশে আসবেন।
  • হোটেল, পর্যটন, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায় বড় অর্থনৈতিক গতি তৈরি হবে।
  • আন্তর্জাতিক সম্প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং আরও শক্তিশালী হবে।

এখনো বাকি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

তবে পুরো বিষয়টি এখনও পরিকল্পনা ও মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এসিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে আয়োজক ঘোষণা করেনি। তাই বিসিবিও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বোর্ডের কর্মকর্তারা আশাবাদী, প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও মূল্যায়ন সন্তোষজনক হলে বহু প্রতীক্ষিত এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।


বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়; এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা আবারও প্রমাণ করার সুযোগ। ২০১৬ সালের সফল আয়োজনের পর প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেছে। যদি এসিসির চূড়ান্ত অনুমোদন আসে, তাহলে ২০২৭ সালের এশিয়া কাপ হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোর একটি।

এখন অপেক্ষা শুধু এসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments