Homeটুডে বাংলারাজধানীতে একই রাতে দুই কিশোরের মৃত্যু: মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার,...

রাজধানীতে একই রাতে দুই কিশোরের মৃত্যু: মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, রহস্য নিয়ে তদন্তে পুলিশ

হাতিরঝিলে ১০ বছরের শিশুশিক্ষার্থী ও হাজারীবাগে ১৭ বছরের কিশোরের মৃত্যু; দুই ঘটনাতেই কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

ঢাকা | ৬ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর দুই এলাকায় পৃথক ঘটনায় এক শিশুশিক্ষার্থী ও এক কিশোরের ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতের এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

একই রাতে দুই কিশোর বয়সী মানুষের এমন মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হাতিরঝিলের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেই মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহের কথা বলা হয়েছে।

মাদ্রাসার জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় শিশুশিক্ষার্থী

পুলিশ জানিয়েছে, হাতিরঝিলের মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থিত আল-ফুরকান মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাহমিদুল ইসলাম (১০)-কে শনিবার দিবাগত রাতে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে রাত পৌনে দুইটার দিকে রামপুরার ডিআইটি রোডের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তাহমিদুলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কাজীপুর গ্রামে। তিনি শাহিন রেজার ছেলে এবং মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার একটি জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান সহপাঠীরা। পরে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

তবে এই ঘটনায় সরাসরি আত্মহত্যার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ তদন্তকারীরা।

এসআই সুমন মিয়া বলেন, “মৃত্যুর কারণ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে প্রকৃত বিষয় জানা যাবে।”

পুলিশের এই মন্তব্য ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হাজারীবাগে কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ

অন্যদিকে, রাজধানীর হাজারীবাগের টালি অফিস এলাকায় মো. নাঈম (১৭) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকালে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে নাঈমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাঈমের বাবা আবদুল মান্নান জানান, তিনি ও তাঁর ছেলে দুজনই ভ্যানে করে আম বিক্রি করতেন। ঘটনার সময় তিনি পাশের এলাকায় ছিলেন।

তিনি বলেন, রাতে বৃষ্টির কারণে বাড়ি ফিরে এসে দেখেন ছেলের ভ্যান বাইরে নেই এবং ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। এরপরই ঘটনার বিষয়টি জানতে পারেন।

পরিবারের দাবি, কী কারণে নাঈম এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

নাঈমের বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান।

তদন্তের অপেক্ষায় উত্তর

দুই ঘটনারই একটি মিল রয়েছে—পরিবার ও স্বজনরা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নন। অন্যদিকে পুলিশও এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ময়নাতদন্তের ফলাফল ও বিস্তারিত অনুসন্ধানের পরই দুই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments