Homeটুডে ওয়ার্ল্ডনিউইয়র্কে ১৪ বছরের কিশোরকে ৩১ বছরের মহিলার ধর্ষণ: ছয় মাসের সাজায় ক্ষোভ

নিউইয়র্কে ১৪ বছরের কিশোরকে ৩১ বছরের মহিলার ধর্ষণ: ছয় মাসের সাজায় ক্ষোভ

দোষ স্বীকার করেও স্বল্প সাজা পাওয়া কলম্বিয়ান নাগরিককে ফেরত পাঠানো ও কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে

নিউইয়র্ক | ৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা কলম্বিয়ান নাগরিক নিকল আলেক্সান্দ্রা কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পর নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাজা কম হওয়ায় ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তকে সাজা শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।

ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী কনত্রেরাস-সুয়ারেজ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ম্যানহাটনের থমাস জেফারসন পার্কের বিপরীতে একটি বডেগা দোকানের শৌচাগারে ওই কিশোরকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে মার্চ মাসে তিনি দ্বিতীয় ডিগ্রির ধর্ষণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।

প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়। আদালতের নির্দেশে তাকে দ্বিতীয় স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং আগামী ১০ বছর প্রবেশন পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।

সাজা নিয়ে প্রশ্ন

রায়ের পর ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানান। তিনি বলেন, অভিযুক্ত একজন অবৈধ অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এমন গুরুতর অপরাধে জড়িত হয়েছেন। তার মতে, সাজা শেষ হলে কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত এবং আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ভুক্তভোগীর বাবা আরও বলেন, এটি কোনো ভুল ছিল না, বরং একটি সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল। তার দাবি, তার ছেলের সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটলেও অন্য কোনো শিশুর সঙ্গেও একই অপরাধ ঘটতে পারত।

ভুক্তভোগীর প্রতিক্রিয়া

আদালতে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে কিশোরটি জানায়, ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে আঘাত করেছে। সে আর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চায় না এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়।

ওই কিশোর লেখে, অভিযুক্ত এখন আর এখানে নেই এবং এতে তার কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছে।

আটক, দোষ স্বীকার ও সাজা

মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো সীমান্তে কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে আটক করা হয়েছিল। তবে পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এর প্রায় দুই বছর পর, ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।

চলতি বছরের মার্চে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই মামলায় মাত্র ছয় মাসের সাজাকে “ন্যায়বিচারের গুরুতর ব্যর্থতা” বলে মন্তব্য করে সমালোচনা করে।

বহিষ্কারের সম্ভাবনা

ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ধর্ষণের মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় কনত্রেরাস-সুয়ারেজের বিরুদ্ধে অভিবাসন–সংক্রান্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে তাকে শেষ পর্যন্ত বহিষ্কার করা হবে কি না, তা নির্ভর করবে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়া কঠোর হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আরও মামলা সামনে

নিউইয়র্কে সাজা ঘোষণার পর কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে ম্যাসাচুসেটসের মেডফোর্ডে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র ডাকাতি, পতিতাবৃত্তি–সংক্রান্ত অপরাধ এবং হামলার অভিযোগে পৃথক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এ কারণে নিউইয়র্কের ঘটনার বিচার শেষ হলেও তার আইনি ঝুঁকি এখানেই শেষ হচ্ছে না। বরং একাধিক অঙ্গরাজ্যের মামলার মুখোমুখি হয়ে তার ভবিষ্যৎ এখন আরও অনিশ্চিত।

অভিবাসন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন চাপ

এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, যৌন অপরাধে শাস্তির মান এবং ভুক্তভোগী সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে দোষ স্বীকার, স্বল্প সাজা এবং বহিষ্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।

নিউইয়র্কের এই ঘটনা এখন শুধু একটি ধর্ষণ মামলা নয়; বরং এটি অভিবাসন, বিচারব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

শেষ পর্যন্ত, এই মামলায় আদালত একটি সাজা দিলেও ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে প্রশ্ন রয়ে গেছে—ন্যায়বিচার কি সত্যিই হলো, নাকি তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকল?

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments