Homeনাগরিক দর্পণটাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিসের ‘বানান বিতর্ক’ ঘিরে ক্ষোভ: ভাইরাল ভিডিওতে নতুন করে প্রশ্নের...

টাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিসের ‘বানান বিতর্ক’ ঘিরে ক্ষোভ: ভাইরাল ভিডিওতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে নাগরিক সেবা

মায়ের নামের বানান নিয়ে গ্রাহককে হয়রানির অভিযোগ; সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ, অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানের শাস্তির দাবি

ঢাকা | ২ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এক গ্রাহককে মায়ের নামের ইংরেজি বানান নিয়ে হয়রানির অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তা আবেদনকারীর মায়ের নামের বানান ভুল দাবি করে তার আবেদন প্রক্রিয়ায় আপত্তি তুলছেন। অথচ আবেদনকারীর দাবি, তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং শিক্ষা সনদে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই আবেদন করেছিলেন। এ ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ, সমালোচনা এবং নাগরিক সেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। (YouTube)

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সরকারি সেবাগ্রহণে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির প্রতিফলন।

কী ঘটেছে?

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি এক গ্রাহক পাসপোর্ট আবেদন সংক্রান্ত কাজে টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গেলে তার মায়ের নামের ইংরেজি বানান নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদে একই বানান দেখানোর চেষ্টা করলেও কর্মকর্তার সঙ্গে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। (YouTube)

সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় বহু মানুষকে। অনেকেই অভিযোগ করেন, পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ মানুষের হয়রানি নতুন কিছু নয়।

ছোটপর্দার অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান ভিডিওটি শেয়ার করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের একাংশও তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

অনেকের মন্তব্যে উঠে এসেছে, তথ্যগত অসঙ্গতির চেয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানিই সাধারণ মানুষের বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরোনো অভিযোগ, নতুন বিতর্ক

পাসপোর্ট অফিসে হয়রানির অভিযোগ বাংলাদেশে নতুন নয়। বিভিন্ন সময় ফরম জমা দেওয়া, তথ্যের সামান্য অমিল, নামের বানান বা কাগজপত্রের ত্রুটিকে কেন্দ্র করে ভোগান্তির অভিযোগ এসেছে।

তবে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ডাটাবেজ ও জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক তথ্য সমন্বয়ের যুগে একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি নথিতে একই তথ্য থাকলে তা যাচাইয়ের স্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা উচিত।

প্রশ্ন উঠছে নাগরিক সেবা নিয়ে

বিশ্লেষকদের মতে, এখানে মূল প্রশ্ন কেবল একটি বানানের নয়; বরং নাগরিককে সেবা দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে।

সরকারি সেবাকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নাগরিককে “সন্দেহের চোখে” দেখবেন নাকি “সেবা গ্রহণকারী” হিসেবে দেখবেন—এই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা ব্যাখ্যা ও সমাধানের পথ দেখানো কর্মকর্তার দায়িত্ব; প্রকাশ্যে অপমান বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করা নয়।

তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি?

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। (YouTube)

নাগরিকদের প্রশ্ন

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি ঘুরছে তা হলো—ডিজিটাল বাংলাদেশে যদি জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষা সনদ এবং অন্যান্য সরকারি নথির তথ্যও যথেষ্ট না হয়, তাহলে একজন সাধারণ নাগরিক নিজের পরিচয় প্রমাণ করবেন কীভাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর এখন কেবল টাঙ্গাইলের একটি পাসপোর্ট অফিস নয়, সামগ্রিক নাগরিক সেবাব্যবস্থার কাছেই খুঁজছেন অনেকে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments