Homeটুডে নেশনজুলাইয়ে বড় স্বস্তি: ১২ কেজি এলপিজির দাম এক লাফে কমলো ৩৫৭ টাকা

জুলাইয়ে বড় স্বস্তি: ১২ কেজি এলপিজির দাম এক লাফে কমলো ৩৫৭ টাকা

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমা, আমদানি ব্যয় ও ডলার সমন্বয়ের প্রভাবে নতুন দর নির্ধারণ; কমেছে অটোগ্যাসের দামও

ঢাকা | ২ জুলাই ২০২৬

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এই মূল্য বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিইআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, সৌদি আরামকোর জুলাই মাসের কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি), আমদানি ব্যয়, ডলার বিনিময় হার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ বিবেচনায় এনে এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক মাসেই বড় পতন

গত জুন মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকায়।

অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে একটি সিলিন্ডারের দাম কমেছে—

৩৫৭ টাকা

সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজির বাজারে এমন বড় মূল্যহ্রাস ভোক্তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংখ্যায় পরিবর্তন

১২ কেজি এলপিজি (জুন): ১,৮৮৫ টাকা
১২ কেজি এলপিজি (জুলাই): ১,৫২৮ টাকা
দাম কমেছে: ৩৫৭ টাকা

অটোগ্যাস (আগে): ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা প্রতি লিটার
অটোগ্যাস (নতুন): ৭০ টাকা ৪০ পয়সা প্রতি লিটার
কমেছে: ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা

অটোগ্যাসেও স্বস্তি

এলপিজির পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে বিইআরসি।

জুলাই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে মূসকসহ অটোগ্যাসের মূল্য প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এ দাম ছিল ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা।

ফলে অটোগ্যাস ব্যবহারকারী পরিবহন খাত এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিকরাও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

অন্য সিলিন্ডারের দামও সমন্বয়

বিইআরসি জানিয়েছে, শুধু ১২ কেজি নয়, অন্যান্য ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও নতুন কেজিভিত্তিক হারে সমন্বয় করা হয়েছে।

তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা এলপিজির মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

কেন কমলো দাম?

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এলপিজির দাম মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে সৌদি আরামকোর মাসভিত্তিক কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর দেশের বাজারমূল্য নির্ভর করে।

এই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয় পুনর্মূল্যায়নের কারণে দেশীয় বাজারেও দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

এলপিজির দাম কমায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন—

✓ শহর ও গ্রামাঞ্চলের এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবারগুলো
✓ ছোট হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী
✓ অটোগ্যাসচালিত যানবাহনের ব্যবহারকারী
✓ ক্ষুদ্র ব্যবসা ও খাদ্যপ্রস্তুতকারীরা

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারির বিষয়। কারণ অনেক সময় খুচরা পর্যায়ে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠে।

এ কারণে মূল্য কমানোর ঘোষণার পাশাপাশি কার্যকর বাজার তদারকিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments