নির্বাচনী অঙ্গীকার নিয়ে বিতর্কের জবাব; করমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন বিরোধীদলীয় নেতা
ঢাকা | ২ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তার দল করমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লটের সুবিধা গ্রহণ না করার অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত সুবিধাকে ব্যক্তিগত প্রাপ্তি হিসেবে দেখাকে তিনি সঠিক মনে করেন না।
বুধবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। একই সভায় তিনি সদ্য পাস হওয়া ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে জামায়াতের প্রস্তাবিত ‘ছায়া বাজেট’-এর সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় তার দল দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা করমুক্ত গাড়ি কিনবেন না এবং সরকারি প্লটের সুবিধা নেবেন না।
তার ভাষায়, “আমরা যা বলেছি স্পষ্ট বলেছি, অস্পষ্ট কোনো কথা বলিনি।”
নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, কিছু ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা বা বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি দাবি করেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত আবাসন সুবিধাকে স্থায়ী সম্পদ বা ব্যক্তিগত মালিকানা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফ্ল্যাট সংসদ কার্যকর থাকা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর সেই সুবিধা আর বহাল থাকে না।
রাজনৈতিক অঙ্গীকার বনাম প্রশাসনিক সুবিধা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রায়ই আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সাধারণত সরকারি গাড়ি, আবাসন, প্লট বা কর-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময় জনপরিসরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। তার বক্তব্যে দুটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—একটি হচ্ছে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের প্রশ্ন, অন্যটি দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রীয় সুবিধার ব্যবহার।
সামনে কী থাকতে পারে
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি সুবিধা গ্রহণের সীমা ও নৈতিকতা নিয়ে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডা. শফিকুর রহমানের বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময় সভা; সংবাদ প্রতিবেদন।



