ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত বাসের ব্রেক বিকল হওয়ার পর নিজের জীবন বাজি রেখে পুরো বাসের যাত্রীদের রক্ষা করলেন ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজার সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং মানবিকতা এবং চরম মুহূর্তে অন্যের জীবন বাঁচানোর এক অবিশ্বাস্য ও বীরত্বপূর্ণ আখ্যান। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘আহসান পরিবহন’ বাসের ২৫ বছর বয়সী হেলপার দুলাল যা করেছেন, তা এক কথায় নজিরবিহীন।
ঘটনার আকস্মিকতা ও দুলালের বীরত্ব
চলন্ত অবস্থায় আচমকা বাসটির ব্রেক বিকল (ব্রেক ফেল) হয়ে পড়ে। সামনেই ছিল ধলেশ্বরী টোল প্লাজা, যেখানে অন্য গাড়ি থামানো থাকে। ওই গতিতে বাসটি টোল প্লাজায় আঘাত করলে মুহূর্তের মধ্যে একটি ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। চালক যখন গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন, তখন বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন দুলাল।
- ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ: চলন্ত বাস থামাতে দুলাল নিজের জীবনের পরোয়া না করে গাড়ি থেকে নিচে নেমে যান।
- শেষ চেষ্টা: গতিশীল বাসের চাকার নিচে কাঠের টুকরো বা কোনো ভারী বস্তু দিয়ে গাড়িটির গতি রোধ করার শেষ চেষ্টা করেন তিনি।
- মর্মান্তিক পরিণতি: দুর্ভাগ্যবশত, চলন্ত বাসের ভারী চাকাটি তাঁর শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।
তবে দুলালের এই অসমসাহসী আত্মত্যাগের ফলে বাসটি বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। বাসের প্রতিটি যাত্রী সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদে ছিলে।
সাধারণ মানুষের অসাধারণ ত্যাগ
আমাদের সমাজে প্রায়শই যাদের আমরা সাধারণ বা প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ হিসেবে দেখি, সংকটের মুহূর্তে তারাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় মানবিকতার পরিচয় দেন। দুলালের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে বীরত্ব বা মানবিকতার জন্য কোনো বড় পদবি বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয় না; এর জন্য প্রয়োজন একটি বিশাল হৃদয়।
“অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করার চেয়ে বড় মানবিকতা আর কী হতে পারে? যে জীবন অন্যের প্রাণ রক্ষায় উৎসর্গ হয়, সে জীবন কখনো বৃথা যায় না।”
দুলালের মতো নিঃস্বার্থ তরুণদের কারণেই এই সমাজ ও সভ্যতার ওপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস আজও টিকে আছে। নিজের জীবন দিয়ে অসংখ্য পরিবারের মুখে হাসি ধরে রাখা এই বীর তরুণ দুলালকে বিনম্র শ্রদ্ধা।



