বুদাপেস্টে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয়; রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুই ইউরোপিয়ান শিরোপা প্যারিসের ক্লাবটির
বুদাপেস্ট | ৩১ মে ২০২৬
ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতিহাস গড়েছে ফরাসি ক্লাব পিএসজি। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্সেনালের সঙ্গে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে দলটি।
এর মধ্য দিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলে বিরল এক কীর্তির মালিক হলো প্যারিস সেন্ট-জার্মেই। চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুই মৌসুমে ট্রফি জয়ের নজির গড়ল তারা।
শুরুতে আঘাত হানে আর্সেনাল
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্সেনাল। ষষ্ঠ মিনিটেই তার ফল পায় ইংলিশ ক্লাবটি।
লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ দারুণ এক ফিনিশিংয়ে গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পরও ছন্দ হারায়নি পিএসজি। ধীরে ধীরে বলের দখল ও আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় লুইস এনরিকে শিষ্যরা।
প্রথমার্ধে উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস ও খভিচা কাভারাতস্কেলিয়া একাধিক আক্রমণ গড়লেও সমতায় ফিরতে পারেনি পিএসজি।
দেম্বেলের গোলে সমতা
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় পিএসজি। ৬৫তম মিনিটে কাভারাতস্কেলিয়াকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
স্পট-কিক থেকে উসমান দেম্বেলে কোনো ভুল করেননি। তাঁর গোলেই ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরে।
গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি পিএসজির দখলে চলে যায়। কাভারাতস্কেলিয়ার একটি শট পোস্টে লাগে, আর ব্র্যাডলি বারকোলা দুটি সম্ভাবনাময় সুযোগ নষ্ট করেন। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে আর্সেনালও কিছু সুযোগ তৈরি করলেও জয়সূচক গোল আদায় করতে পারেনি।
অতিরিক্ত সময়েও অমীমাংসিত
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দলই কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মেলেনি।
ফলে ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণে প্রয়োজন হয় টাইব্রেকারের।
টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াই
টাইব্রেকারে শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা। আর্সেনালের দ্বিতীয় শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর পিএসজি এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। যদিও পরে নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক দাভিদ রায়া।
প্রথম চারটি শট শেষে দুই দলের অবস্থান ছিল সমান।
শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক মুহূর্ত আসে আর্সেনালের শেষ শটে। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে পিএসজি শিবির। এরপর লুকাস বেরালদো সফলভাবে শট জালে জড়িয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন।
ইতিহাসের পাতায় পিএসজি
দীর্ঘদিন ইউরোপিয়ান সাফল্যের অপেক্ষায় থাকা পিএসজি ২০২৫ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তারা সেই সাফল্য ধরে রেখে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে টানা দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের কৃতিত্ব এখন প্যারিসের দলটির।
📦 এক নজরে
- ফাইনাল: পিএসজি ১-১ আর্সেনাল
- টাইব্রেকার: পিএসজি ৪-৩ আর্সেনাল
- ভেন্যু: পুসকাস অ্যারেনা, বুদাপেস্ট
- আর্সেনালের গোল: কাই হাভার্টজ (৬’)
- পিএসজির গোল: উসমান দেম্বেলে (৬৫’, পেনাল্টি)
- ম্যানেজার: লুইস এনরিকে
- অর্জন: টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা
📊 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| চ্যাম্পিয়ন | পিএসজি |
| রানার্স-আপ | আর্সেনাল |
| নির্ধারিত সময় | ১-১ |
| টাইব্রেকার | ৪-৩ |
| চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা | টানা ২টি |
| ফাইনাল ভেন্যু | পুসকাস অ্যারেনা |
🔎 ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
- ৬৫ মিনিটে কাভারাতস্কেলিয়ার ওপর ফাউল থেকে পাওয়া পেনাল্টি।
- উসমান দেম্বেলের সমতাসূচক গোল।
- টাইব্রেকারে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া।
- লুকাস বেরালদোর সফল শেষ শট।
📌 সংক্ষেপে
চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসে পিএসজি। অতিরিক্ত সময়েও ফল নির্ধারিত না হওয়ায় টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে স্নায়ু ধরে রেখে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ফরাসি ক্লাবটি। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার বিরল কীর্তি গড়ল পিএসজি।
📌 তথ্যসূত্র
- উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ রিপোর্ট
- এএফপি



