শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জেলে না পাঠিয়ে বিএসএফের হাতে সরাসরি হস্তান্তর করা হবে’
স্বরূপনগর (পশ্চিমবঙ্গ) | ২৭ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন সরকার গঠনের পরপরই ভারতের সীমান্ত এলাকায় ভূকম্পন শুরু হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে এবং তাদের আটকে রাখতে রাজ্যটিতে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর থানার অন্তর্গত হাকিমপুর সীমান্ত চেকপোস্টে বাংলাদেশে ফিরে আসার জন্য কয়েক শ মানুষের আকস্মিক ও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
সীমান্তবর্তী সূত্রগুলো জানিয়েছে, জড়ো হওয়া এই মানুষগুলো দালাল চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের কাছে ভারতে অবস্থানের কোনো বৈধ নথিপত্র বা পাসপোর্ট নেই। রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকের ভয়ে তারা এখন বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন।
🕒 হাকিমপুর চেকপোস্টে আসা ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি
আকস্মিক এই হুলস্থুলের মধ্যে হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দিনমজুর, রঙের কাজ বা গৃহপরিচারিকার মতো নানা নিম্ন আয়ের পেশায় যুক্ত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন। সীমান্তে বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:
- আব্দুল কাদের (বৃদ্ধ): “আমার বাড়ি বাংলাদেশের খুলনা জেলায়। এক বছর আগে দালালের মাধ্যমে এখানে এসে দুর্গনগরে রঙের কাজ করতাম। এখন ফিরে যাচ্ছি, কারণ এখানকার নতুন সরকার পরিষ্কার বলে দিয়েছে দেশের মানুষকে দেশে ফিরে যেতে হবে।”
- রবি সরকার (শ্রমিক): “আমি বাংলাদেশের তেরোখাদা অঞ্চলের বাসিন্দা। গত পাঁচ বছর ধরে এখানে লেবারের (দিনমজুর) কাজ করতাম। পরিস্থিতি দেখে এখন বাড়ি চলে যাচ্ছি।”
- নিতী বিবি (গৃহপরিচারিকা): “দমদমে থেকে গত ২-৩ মাস ধরে পরিচারিকার কাজ করছিলাম। কোন সীমান্ত দিয়ে এসেছিলাম তা মনে নেই। এখানে এখন আর থাকতে দিচ্ছে না। তাই আমরা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণ করতে এসেছি।”
💬 “এরা কি আমাদের জামাই?” — মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা
হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশিদের এই ভিড় জমানোর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর এক সরকারি বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রশাসনের কঠোর মনোভাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন:
“বাংলাদেশের মুখপাত্র আগেই জানিয়েছেন, যারা প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক তাদের তারা ফেরত নেবে। এরা সবাই বাংলাদেশি, এদের নিয়ে নেওয়া উচিত। আমরা পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি, এদের থানায় এনে জেলে ঢুকিয়ে রাখার কোনো দরকার নেই। এ দেশের পয়সায় খাবার খাবে, জামা-প্যান্ট দেবো, ওষুধ দেবো—এরা কি আমাদের জামাই? তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলে যান, নয়তো সরকারের যা করার তাই করবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “হাকিমপুরের বিষয়টি আমি মিডিয়ায় দেখছিলাম। এটা নতুন কিছু নয়। আমরা স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করেছি, বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সরাসরি স্থানীয় পুলিশ এদের হেফাজতে নেবে এবং বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করবে। ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যে রিসিভ ও হ্যান্ডওভার সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রয়েছে, সেই রিসিভ গ্রুপ করেই এদের পুশব্যাক করা হবে।”
📍 ইভেন্ট ক্রোনোলজি ও লোকেশন সামারি
- রোববার (২৪ মে ২০২৬): পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কর্তৃক রাজ্যে প্রথমবার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
- সোমবার-মঙ্গলবার (২৫-২৬ মে ২০২৬): অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণে রাজ্য পুলিশের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি শুরু।
- বুধবার (২৭ মে ২০২৬): আটকের ভয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কলকাতা (দমদম, দুর্গানগর) থেকে অবৈধ নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে গণ-জড়ো হওয়া এবং বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের চেষ্টা।
📌 তথ্যসূত্র:
- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তি (মে ২০২৬)
- বিএসএফ (Border Security Force) উত্তর ২৪ পরগনা সেক্টর অন-গ্রাউন্ড ডায়েরি
- হাকিমপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ব্যুরো রিপোর্ট
- ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার



