সুনির্দিষ্ট পরিধি ছাড়া সদরঘাট বা এলিফ্যান্ট রোডে বসতে পারবেন না কোনো হকার; ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে ৫০-৫০ ফর্মুলায় নাগরিক সমর্থনের আহ্বান
ঢাকা | ২৩ মে ২০২৬
রাজধানী ঢাকায় অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন হকার এবং যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত রিকশার উপদ্রব বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজধানীতে কোনো হকার বা রিকশা সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশনের বাইরে থাকতে পারবে না। একই সঙ্গে সদরঘাট বা এলিফ্যান্ট রোডের মতো অতি জনাকীর্ণ এলাকায় ঠিক কতজন হকার বসতে পারবেন, তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিধি ও সীমারেখা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
আজ শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সিরডাপ (CIRDAP) মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত ‘ঢাকায় বৃষ্টি ভোগায় কেন!’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তন ও রাজধানীর শৃঙ্খলা সংকট
সেমিনারে ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ঢাকা শহরে হকার এবং বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা মারাত্মক ও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
শহরের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুস সালাম বলেন:
“নদীভাঙা কিংবা গ্রামগঞ্জে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ ঢাকা শহরে এসেই কোনো ধরনের লাইসেন্স, অনুমোদন বা ফি ছাড়াই রিকশা নিয়ে প্রধান সড়কে নেমে পড়ছে। এভাবে যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখল করে একটি আন্তর্জাতিক মানের মেগাসিটি চলতে পারে না। এই উপদ্রব আমাদের কমাতেই হবে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, হকার ও রিকশার ক্ষেত্রে এই চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে যদি কোনো স্বার্থান্বেষী মহল আন্দোলনের নামে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তবে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এই কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়নে তিনি সাধারণ নগরবাসীর পূর্ণ সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
📊 ঢাকা দক্ষিণ সিটির নতুন কর্মপরিকল্পনা ও কুইক ফ্যাক্টস
নাগরিক সংলাপে ডিএসসিসি প্রশাসকের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী সিটির নতুন রোডম্যাপ নিচে তুলে ধরা হলো:
- শতভাগ নিবন্ধন: দক্ষিণ সিটির আওতাধীন এলাকার প্রতিটি রিকশা এবং হকারকে বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল ডাটাবেজ ও রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে।
- হকার জোনিং সিস্টেম: সদরঘাট, নিউ মার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোডের মতো বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ফুটপাত ভেদে হকার বসার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও স্থান (পরিধি) বেঁধে দেওয়া হবে।
- রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান: সরকারের প্রতি অন্ধ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সিটির উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিলে তা আলটিমেটলি দেশের জন্যই বড় ক্ষতি বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
💬 ‘৫০-৫০ ফর্মুলা’ ও দুই বছরের মহাপরিকল্পনা
সংলাপে ঢাকার জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশার উপদ্রব নিয়ে গণমাধ্যমের রিপোর্টের সমালোচনা করে প্রশাসক বলেন, “বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই ঢাকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বাসযোগ্যহীন, দূষিত, আবর্জনা-গন্ধময় ও মশার শহর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই অপবাদ থেকে চিরতরে উত্তরণ সম্ভব।”
সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে তিনি একটি নতুন ফর্মুলা দেন:
“জলাবদ্ধতা ও মশার সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে জনগণ ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নগরবাসী যদি নিজ দায়িত্ব থেকে ৫০ শতাংশ সচেতন হন এবং সিটি করপোরেশন যদি বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তবে শতভাগ সফল হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।”
আবদুস সালাম দৃঢ়তার সঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলমান প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে যদি জাতীয় ঐক্য ও সমষ্টিগত নাগরিক প্রয়াস নিশ্চিত করা যায়, তবে আগামীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে পূর্ণ মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেলে মাত্র দুই বছরের মধ্যে তিনি রাজধানীর বর্তমান জরাজীর্ণ চিত্র সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দেবেন। ঢাকাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের উন্নত, মানসম্পন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করার প্রত্যয় জানান তিনি।
📌 তথ্যসূত্র:
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সচিবালয় প্রেস উইং
- নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ (এনইউজেএফবি) সেমিনারের কার্যবিবরণী



