নিলয় সাহা নীল, রাজশাহী থেকে: বাংলাদেশ প্রথম জাদুঘর এবং দেশের একমাত্র গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাদুঘর যে শহরে অবস্থিত তার নাম রাজশাহী।
বলছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের কথা। তবে এ শহরের অধিকাংশ তরুণ তরুণী এবং শিক্ষার্থীরা জাদুঘর বলতে এতদিন জাদুঘর মোড় শব্দটাকেই শহরের যোগাযোগের নির্দেশক হিসেবেই শুধু চিনে এসেছে। প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের ভারি ভারি শব্দ আর স্মারকের সাথে পরিচিত হয়নি তেমন করে। সেই আক্ষেপ আর সমস্যাকে মাথায় নিয়েই বাংলাদেশ সোশিও-কালচারাল ফোরাম (বিএসসিএফ) আয়োজন করেছিলো বিএসসিএফ হেরিটেজ হাইকিং ২০২৬ এর।

বিএসসিএফ এর ইয়ুথ উয়ং বিএসসিএফ ইয়ুথ নেটওয়ার্ক এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সহযোগিতায় হেরিটেজ হাইকিং এর উদ্বোধন হয় গত ২৫ এপ্রিল বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সেমিনার কক্ষে। হেরিটেজ হাইকিং দেশের প্রথম এমন কোনো আয়োজন যা সরাসরি প্রতিযোগিতার ঢং এ তরুণদেরকে ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করালো। আয়োজনের শুরুটা হয় অনলাইনে আবেদন আহ্বানের মাধ্যমে। রাজশাহী শহরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক আবেদনকারীর থেকে ৬০ জন সদস্যকে নির্বাচিত করে তাদেরকে ভাগ করা হয় ৬ টি দলে।
চাঁদের হাসুলি, ইকোস অব বরেন্দ্র, তাম্রলিপি, শেকর যাত্রা, বাঘা লেগাসি, প্রাচী এই চারটি দলের দলনেতা ও উপদলনেতাদের নেতৃত্বে আয়োজন মাঠে গড়ায়। প্রত্যেক দলকে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারী ঘুরে এবং রাজশাহী এবং সংলগ্ন এলাকার প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গা গুলো ঘুরে দেখে তার উপর একটি গবেষণাধর্মী রিপোর্ট লিখে জমা দিতে বলা হয়, সেই সাথে প্রজন্মের চাহিদা মাথায় রেখে ৬ টি দলকে আলাদা ৬ টি প্রত্নতত্ত নির্ভর ভিডিও কনটেন্ট বানাতে বলা হয় যা তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে।
যেখানে তারা রাজশাহী শহরের বিভিন্ন হেরিটেজ স্পটের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করে। অনলাইনের প্রচারণা ও বিশেষ জুরি বোর্ডের তত্বাবধানে তাদের কনটেন্ট মূল্যায়ন করা হয়। মাঠপর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের মাঠসমীক্ষা, রিপোর্ট লেখা এবং ভিডিও কনটেন্ট বানানোর পরে আজ ১৫ মে ২০২৬ বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সেমিনার কক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠানে তারা তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম একটি দলীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরে যেখানে মোট ২০০ নাম্বারে মূল্যায়নে তাদের মধ্যে ৩ দলকে নির্বাচিত করা হয়। সাথে সকল অশংগ্রহনকারীকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।
আজকের সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের পরিচালক ড.কাজী এম মোস্তাফিজুর রহমান, একই সাথে তিনি আজ ❝হেরিটেজ কেন জরুরি?❞ এই শিরোনামে একটি আলাদা সেশন নেন।
সমাপনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো রাজশাহীর বিশেষ প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের উপ-গ্রন্থাগারিক মো.আসলাম রেজা, চলচ্চিত্র নির্মাতা রাহী আব্দুলাহ, চর্চার সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাফিস পিয়াল।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হেরিটেজ হাইকিং এর আহ্বায়ক রেদোয়ান আহমেদ এবং সভাপতিত্ব করেন বিএসসিএফ এর প্রধান নির্বাহী নিলয় সাহা নীল।
উপস্থিতি সকল অতিথি বিএসসিএফ এর এই আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের সাথে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের যে সম্পর্ক তৈরি হওয়া শুরু হলো, তার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন এবং হেরিটেজ হাইকিং কে সারাদেশের তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেন । সমাপনী পর্ব শেষে সকল বিজয়ী অংশগ্রহণকারীদের হাতে পুরষ্কার ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয় । উল্লেখ্য বাংলাদেশ সোশিও-কালচারাল ফোরাম বিএসসিএফ বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের তরুণদের মধ্যে সামাজিক- সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে বেগবান করতে কাজ করে চলেছে।



