ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শর্তহীন যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতের প্রস্তাব
ইসলামাবাদ | ২২ মে ২০২৬ দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি ও দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা হ্রাস চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১观测 মে) পাকিস্তানের প্রখ্যাত নীতিবিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলী কে চিশতি (আলী কামরান চিশতি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এই কূটনৈতিক খসড়া দলিলটি প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত এই ঘোষণাপত্রে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারস্য উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত এই খসড়া চুক্তিটি আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের প্রতি উভয় দেশের পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকার অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়াতে খসড়াটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাকবচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দুই দেশের নীতিগত অবস্থানকে নতুন রূপ দিতে পারে।
খসড়া চুক্তির প্রধান শর্ত ও রূপরেখাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- শর্তহীন যুদ্ধবিরতি: প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ—সব ধরনের রণাঙ্গনে অবিলম্বে একটি ব্যাপক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে সম্মত হবে।
- অবকাঠামো রক্ষা: কোনো পক্ষই একে অপরের সামরিক, বেসামরিক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারবে না।
- মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বন্ধ: মাঠপর্যায়ের সামরিক অভিযানের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে চলমান সব ধরনের সামরিক উসকানি এবং তথাকথিত ‘মিডিয়া যুদ্ধ’ সম্পূর্ণ বন্ধের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
- সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি: খসড়ায় একে অপরের জাতীয় sovereignty বা সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার নীতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই খসড়া প্রস্তাবনার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চুক্তি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এবং ওমান সাগরে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও সাধারণ নৌচলাচলের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া চুক্তি বাস্তবায়নকালীন যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি ‘যৌথ পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আলী কে চিশতির প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষ কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান নিজেদের মধ্যকার সব অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করবে। দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি বা অন্যান্য নিরাপত্তা ইস্যুতে ইরানের পূর্ণ আনুগত্য ও শর্ত পালনের বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে নেবে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদদের মতে, পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি পরোক্ষ ও নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সেতু হিসেবে কাজ করে আসছে। এই খসড়াটি যদি চূড়ান্ত রূপ পায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সুরক্ষায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে। তবে এই খসড়া প্রস্তাবনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) বা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
- [তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এবং বিশ্লেষক আলী কে চিশতির প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতি]



