Homeটুডে ওয়ার্ল্ডকলকাতায় এবার ‘বুলডোজার নীতি’: শুভেন্দু প্রশাসনের নির্দেশে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ কারখানা

কলকাতায় এবার ‘বুলডোজার নীতি’: শুভেন্দু প্রশাসনের নির্দেশে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ কারখানা

তপসিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যুর পর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর; কসবা, তিলজলা ও মোমিনপুরেও চলবে অভিযান।

কলকাতা | ১৫ মে ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের অধীনে শুরু হলো বহুল আলোচিত ‘বুলডোজার অভিযান’। উত্তরপ্রদেশের আদলে এবার খাস কলকাতায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে সক্রিয় হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। বুধবার (১৩ মে) কলকাতার তপসিয়া এলাকায় একটি অবৈধ চামড়া কারখানা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় পৌরসভা।


তপসিয়ার ঘটনা ও প্রশাসনিক অ্যাকশন

গত মঙ্গলবার তপসিয়ার একটি বহুতল চামড়া কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর তদন্তে জানা যায়, ভবনটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল।

  • শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে সরাসরি নির্দেশ দেন ভবনটি ভেঙে ফেলার। তিনি বলেন, “অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আমার সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে।”
  • গ্রেপ্তার: অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার মালিক জাফর নিশারসহ দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
  • বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন: মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, শহরের যেখানেই অবৈধ নির্মাণ পাওয়া যাবে, সেখানেই বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেওয়া হবে।

যেসব এলাকায় কড়া নজরদারি

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন:

  • কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর ও একবালপুর।এসব এলাকায় অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা ও বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়া গড়ে ওঠা বহুতলগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিমিত্রা পালের হুঁশিয়ারি

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাজ্যের পৌরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, যেসব ভবনের ফায়ার লাইসেন্স বা এনওসি (NOC) নেই, তাদের নোটিশ দেওয়া হবে। তবে আইন অমান্য করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।


বিরোধীদের সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক

নির্বাচনী প্রচারের সময় যোগী আদিত্যনাথ বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘বুলডোজার নীতি’র কথা বলেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী সেই পথেই হাঁটায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

  • নওশাদ সিদ্দিকি (বিধায়ক, ভাঙড়): তিনি এই দ্রুত ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়াকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ওই ভবনের ভাড়াটেদের পুনর্বাসনের দাবি জানান এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলেন।

📊 এক নজরে তপসিয়া অভিযান

বিষয়তথ্য
অভিযান এলাকাতপসিয়া, কলকাতা
কারণঅবৈধ নির্মাণ ও অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু
নিহত২ জন
প্রশাসনিক ব্যবস্থাবুলডোজার দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া
পরবর্তী লক্ষ্যকসবা, তিলজলা, মোমিনপুর

🔎 বিশ্লেষণ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’র প্রবেশ নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের দাবি এটি জননিরাপত্তার জন্য নেওয়া পদক্ষেপ, অন্যদিকে বিরোধীরা একে আইনি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার ডট কম, স্থানীয় সংবাদ প্রতিনিধি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular